মেইন ম্যেনু

দাম্পত্য কলহের জের

দেড় বছরের সন্তানকে ধারালো ব্লেড দিয়ে পেট কেটে হত্যা করলো মা

স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণে দেড় বছরের শিশুসন্তানকে ধারালো ব্লেড দিয়ে পেট কেটে হত্যা করলো এক মা। গত সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান মাস্টারপাড়ার একটি বাসায় বাবা-মায়ের শোবার ঘর থেকে নেহাল সাদিক নামে ওই শিশুটির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ মা ফাহমিদা মীর মুক্তি ও বাবা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ওই মা। রাতে বাবাকে ছেড়ে দিলে তিনি বাদি হয়ে স্ত্রী মুক্তির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

উত্তরখান থানার এসআই আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ মাস্টারপাড়া সোসাইটি রোডের ৮৫৯ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্যাট থেকে নেহালের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্যাটে বাবা-মায়ের কক্ষে খাটের ওপর পড়ে ছিল লাশটি। পাশেই ছিলেন তার মা মুক্তি।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, আড়াই বছর আগে সাজ্জাদ হোসেন ও মুক্তি ভালোবেসে বিয়ে করেন। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের এক বছরের মধ্যে তাদের ঘরে নেহালের জন্ম। কিন্তু ওই সন্তানের জন্ম নিয়েই দু’জনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সাজ্জাদ ওই সন্তান অন্য কারো বলে মুক্তিকে সন্দেহ করত। আবার মুক্তিও নানা বিষয়ে সাজ্জাদকে সন্দেহ করত। সম্প্রতি তাদের সন্দেহের মাত্রা বেড়ে যায়। দু’জনের মধ্যে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে।

সোমবার সকালে সাজ্জাদ বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ও দু’জনের ঝগড়া হয়। এরপর সাজ্জাদ বাসা থেকে চলে যান। রাত ১১টায় বাসায় ফিরে দেখেন মুক্তি তাদের সন্তানকে হত্যা করে লাশ খাটের ওপর ফেলে রেখেছে। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মর্গ সূত্র জানায়, শিশুটির পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এতে তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে গেছে। এ ছাড়াও শিশুটির গলায় কালো দাগ রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, মুক্তি নেশাগ্রস্ত। তিনি প্রচুর ধূমপান করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করতেন। যার কারণে তার আগের স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। একপর্যায়ে ওই স্বামী তাদের ঘরে থাকা ১৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া চলে যান। এ দিকে প্রথম স্ত্রীর সাথে সাজ্জাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এর মাঝে সাজ্জাদ ও মুক্তির পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম, একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের বছরখানেকের মধ্যে জন্ম হয় নেহালের।

বাড়ির মালিকের স্বজনরা জানান, সাজ্জাদ ও মুক্তির ঝগড়া লেগেই থাকত। তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে অন্য ভাড়াটিয়ারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেন। প্রতিবেশীরা সাংবাদিকদের জানান, তাদের ঝগড়া শুনে বোঝা যেত দু’জনই দু’জনকে সন্দেহ করতেন। তাদের ঝগড়ার বেশি সময় পার হতো ওই সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে। উত্তরখান থানার ওসি শেখ সিরাজুল হক জানান, মা-বাবা কারোরই চলাফেরা ভালো ছিল না। দু’জন ভালোবেসে বিয়ে করলেও তাদের মধ্যে সন্দেহ ছিল প্রচণ্ড। যার কারণে কলহ লেগেই থাকত। সন্তানকে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে মা নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এরপর তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মায়ের গলাও কালো দাগ পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, দু’জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মুক্তি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ধারালো ব্লেড দিয়ে তার সন্তানের পেট কেটে ফেলেন। এতে তার নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যায়। ওসি বলেন, এই হত্যার পেছনে আরো কী কী কারণ রয়েছে সে ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

সাজ্জাদ হোসেনের চাচা কবির হোসেন জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে সাজ্জাদের সাথে পরিবারের সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। কারো সাথে তার কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না। যার কারণে সাজ্জাদ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় ওঠে। ময়নাতদন্ত শেষে সাজ্জাদের ভাই কবির হোসেন ভাতিজার লাশগ্রহণ করেন।






মন্তব্য চালু নেই