মেইন ম্যেনু

দোলযাত্রায় আবীরের রঙে রঙিন গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

বিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: আবীরের রঙে রঙিন হওয়ার উৎসব দোলযাত্রা আজ। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই পরস্পরকে রঙের আবীর মাখিয়ে দিনভর আনন্দে মেতে থাকবেন এই দিনটিতে। সারা দেশেই দোলযাত্রা তথা বসন্ত উৎসবের হাওয়া। ধর্মীয় গণ্ডী পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গুলোতেও শুরু হয়েছে রঙে রঙে রঙিন হওয়ার পালা। এরই মাঝে বসন্তের রঙ্গিন হাওয়া বয়ে গেল সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে, হোলি (দোল) উৎসবে হরেক রকম রঙে মাতলেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নানা রঙের আবীর নিয়ে হাজির হয় তারা। ঝালমুড়ি চত্বর, ফুচকা চত্বর, বাদাম তলা, ট্রান্সপোর্ট ইয়ার্ড, টেনিস কোর্ট, মিডিয়া চত্বর সহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ছেয়ে যায় বসন্তেরনানা রঙের আবীরে। এ সময় তারা একে অন্যকে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ আবীরে রাঙিয়ে তোলেন। তাদের এই উৎসবে বাদ পড়েনি কেউ। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের বিভিন্ন ছাত্রাবাসে গিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২তম ব্যাচের ছাত্র রায়হান বলেন, ‘আজ আমরা নানা রঙের আবীরে নিজেদেরকে রাঙিয়ে তুলে সকলের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করে অসাম্প্রদায়িক একটি জাতি হিসেবে বাঙালী জাতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরবো’।

অপরদিকে দোল উৎসবের সার্বজনীনতার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলে ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র বিধান মূখার্জী বলেন, “দোল বা হোলি বা বসন্ত উৎসব যাই বলি না কেন, এই উৎসব বাঙালীর উৎসব, এই উৎসব প্রীতির উৎসব-প্রেমের উৎসব। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি আজ আবীরের সাথে সাথে সকলের মনে দৃঢ় হবে ভাতৃত্ববোধ, আসবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা।”

হোলি ও দোলযাত্রা নাম দুই হলেও উৎসবের চরিত্র এক। এই উৎসবের অপর নাম বসন্ত উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবীর ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি।

পণ্ডিতদের মতে, রাধাকৃষ্ণের দোলনায় দোলা বা দোলায় গমন করা থেকেই ‘দোল’ কথাটির উৎপত্তি। বাঙালির দোল বৈষ্ণব ধর্মাশ্রিত একটি উৎসব হলেও রবীন্দ্রনাথ দোলযাত্রার ধর্মীয় অংশকে বাদ দিয়ে তার সাংস্কৃতিক দিকটিকে নিয়ে দোলযাত্রাকে ‘বসন্ত উৎসব’-এ রূপান্তরিত করেন। খানিকটা সেই সূত্র ধরেই দোল প্রীতির উৎসব, প্রেমের উৎসব।






মন্তব্য চালু নেই