মেইন ম্যেনু

দৌড়ানো শরীরের পক্ষে কতটা ভাল জানেন?

ছোট থেকেই বাবা-মায়েদের নির্দেশ ‘এই দৌড়োও, দৌড়োও’। কিন্তু, অনেকটা নিমরাজি হয়েই আমরা কাজটা করি। বড় হয়ে ৯৯ শতাংশ মানুষই দৌড়নোর এই অভ্যাস ত্যাগ করেন। খুব বেশি হলে জিম, না হলে সাঁতার। কিন্তু, আমরা জানিই না, রোজ নিয়ম করে দৌড়ানো শরীরের পক্ষে কতটা ভাল।

শরীর ফিট রাখতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কসরত করেন। কিন্তু, অনেকেই হয়তো জানেন না দৌড়লে হাড় শক্ত হয়। আর এর ফলে আর্থারাইটিস সহ বিভিন্ন বাতের ব্যাথা, গাঁটের ব্যাথা থেকে নিস্তার মেলে।

দৌড়লে হাড় শক্ত হয় কী ভাবে? সম্প্রতি একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে একদল মানুষকে ‘আল্টাম্যারাথন’-এ অংশ নেওয়ানো হয়। আর একদল যেরকম সাধারণ শরীর চর্চা করেন। তারমধ্যেই তাঁদের রাখা হয়।

দেখা যায় যাঁরা ‘আল্টাম্যারাথন’-এ অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের শরীরে ‘গ্লুকাজোন’-এর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ‘ইনসুলিন’ ও ‘লেপটিন’ জাতীয় হরমোনের নিঃস্ক্রমণ কম হয়েছে। ‘গ্লুকাজোন’ বেশি ক্ষারিত হওয়া মানে শরীরের ‘এনার্জি’ বৃদ্ধি পাবে। আর ‘ইনসুলিন’ ও ‘লেপটিন’ হরমোন কম ক্ষারিত হওয়া মানে শরীরের ‘স্ট্যামিনা’ বৃদ্ধি পাওয়া।

সেইসঙ্গে ‘অস্টেওকালসিন’ এবং ‘পি ওয়ান এন পি’-র মাত্রা কমে যায়। এতে ‘মেটাবলিজম’ প্রভাবিত হয়। হাড়ের মধ্যে যে ‘টিস্যু’ থাকে তাকে সক্রিয় করে তোলে। এই ‘টিস্যুগুলি, তখন অগ্ন্যাশয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ‘এনার্জি’ গ্রহণ করে। যত পরিমাণ ‘এনার্জি’ সংগ্রহ করবে ততই ‘টিস্যু’র পুষ্টি বৃদ্ধি হয়।

এতে উপকৃত হয় হাড়গুলি। গবেষকদের মতে দৌড়লে শরীরের ভিতরে যে ঘর্ষণ প্রক্রিয়া চলে তাতে হাড়গুলিও স্ট্যামিনা নিতে টিস্যুগুলিকে আকড়ে ধরে। বলতে গেলে একটা ‘চেইন রিয়্যাকশন’-এর মতো শরীরের ভিতরে তখন কাজ চলে।

কিন্তু, যারা সাধারণভাব শরীর চর্চা করে তাঁদের শরীরের ভিতরে এই ঘর্ষণ প্রক্রিয়া হয় না। ফলে হাড়গুলি অতিরিক্ত শক্তি পাওয়ার চেষ্টা করে না। ফলে, দৌড়বিদদের মতো এঁদের হাড় শক্ত হয় না। কিছুদিন আগেই মিউনিখে ‘ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অব এন্ডোক্রিনোলজি’-তে এই গবেষণার রিপোর্ট পেশও করা হয়েছে।-এবেলা






মন্তব্য চালু নেই