মেইন ম্যেনু

ঈদ সামনে রেখে বাড়বে ফেরি

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত লঞ্চ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে, ঈদ উল ফিতরে এ ঘাটে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখতে বহরে অতিরিক্ত আরো দুইটি ফেরি সংযোজন করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে ঘাট এলাকায় ছিনতাই, ফেরিতে জুয়া, কৃত্রিম জট সৃষ্টি এবং জাল টিকেট বিক্রির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চঘাটের ওভারব্রীজের উপরে ৭-৮ জন লোক পাটুরিয়া ঘাটগামী যাত্রীদের কাছে ২৫ টাকা করে লঞ্চের টিকিট বিক্রি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রতিজন যাত্রীর বর্তমান লঞ্চ ভাড়া এতোদিন ছিল ২০ টাকা। অবশ্য এ ভাড়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের আপত্তি রয়েছে। এত সামান্য দুরত্বে এ পরিমান ভাড়ায় অনেক যাত্রীই ক্ষুব্ধ ছিলেন। অথচ গত ১ জুলাই সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে ২৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোন যাত্রী বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সাথে খারাপ আচরনসহ লাঞ্চিত করার মত ঘটনাও ঘটছে।

দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনালে নদী পাড় হতে আসা যাত্রী খানখানাপুরের মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে লঞ্চভাড়া বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। ২০ টাকার টিকিট দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ২৫ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে ঘাটে লাঞ্চিত হতে হয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাটে নিযুক্ত সুপার ভাইজার রেজাউল করিম রওশন জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী রুটে ৩৭টি লঞ্চ চলাচল করে। লঞ্চ মালিক সমিতির নির্দেশে তারা যাত্রীদের থেকে ২৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।

লঞ্চ মালিক হুমায়ন কবির বলেন, সরকারী গত ১ জুলাই থেকে পল্টুনের ইজারাপ্রথা বাতিল করেছে। একই সাথে লঞ্চ ভাড়ার সাথে পল্টুন ভাড়া সংযুক্ত করতে লঞ্চ মালিক সমিতিকে বাৎসরিক ৬৬ লাখ টাকার চুক্তি করতে হয়েছে। ৬ কিস্তিতে প্রদান যোগ্য ওই টাকার প্রথম কিস্তি ১১ লাখ টাকা ইতোমধ্যেই সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, লঞ্চের নিচের অংশে উঠা প্রতিজন যাত্রীর ভাড়া ১৮ টাকা এবং পল্টুনের প্রবেশ ফি ২ টাকা। মোট ভাড়া ২০ টাকা। আর লঞ্চের উপরের অংশে উঠা যাত্রীর ভাড়া ২৭ টাকা এবং পল্টুনের প্রবেশ ফি ২ টাকা। মোট ভাড়া ২৯ টাকা। এ দুই স্তরের ভাড়া সমন্বয় করে যাত্রী প্রতি নেয়ার কথা ২৪ টাকা ৫০ পয়শা। সেখানে আমরা নিচ্ছি ২৫ টাকা।

বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট অফিসার মো. এনামুল হক জানান, লঞ্চে ভাড়া বেশি নেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় গোয়ালন্দ ও শিবালয় উপজেলার এসিল্যান্ড, থানার ওসি ও লঞ্চ মালিকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় লঞ্চের পৃথক টিকেট ছাপানোর জন্য বলা হয়েছে। যে যাত্রী নিচে যাবে তাকে ২০ টাকা এবং যে যাত্রী উপরে যাবে তার কাছ থেকে ২৯ টাকা ভাড়া আদায় করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদে দক্ষিঞ্চলের ২১ জেলা গামী যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে রোরো ৮টি, কে-টাইট ৩টি এবং ইউটিলিটি ফেরি রয়েছে ৫টিসহ ১৬টি ফেরি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে আরো ২টি ফেরি। এর মধ্যে লাহারহাট থেকে আসছে ইউটিলিটি ফেরি হাসনা হেনা এবং নারায়নগঞ্জ ডক ইয়ার্ড থেকে আসছে রোরো ফেরি মতিউর রহমান। তিনি আরো বলেন, ফেরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ঘাটে থাকা ভাসমান কারখানা সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাছাড়া নদীতে ¯্রােত থাকালেও নেই কোন নব্যতা সংকট। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবংকোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে আগামী ঈদে যাত্রীদের দৌলতদিয়া ঘাটে কোন ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি একেএম নাছির উল্লাহ জানিয়েছেন, ঘাট এলাকায় ছিনতাই, ফেরিতে জুয়া, কৃত্রিম জট সৃষ্টি এবং জাল টিকেট বিক্রির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতোমধ্যেই পুলিশ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য জামির, আব্দুর রাজ্জাক, লাভলু ও এলাহি নামে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ৩ জন ফেরি জাল টিকেট বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঈদকে সামনে রেখে ঘাট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স দেখাবে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশে মোতায়ের করাসহ থাকবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। ফলে আগামী ঈদে সর্বচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে থাককে এ ঘাট।






মন্তব্য চালু নেই