মেইন ম্যেনু

ধনী হওয়ার উপায় জানালেন বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ার

ধনী হওয়া যেমন কোনো সহজ কাজ নয় তেমন তা সঠিকভাবে চেষ্টা করলে একেবারে অসম্ভবও নয়। এ লেখায় তুলে ধরা হলো বিশ্বের সেরা ১০ বিলিয়নেয়ারের ধনী হওয়ার পরামর্শ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।–কালেরকণ্ঠ।

১. বিল গেটস : উন্নতির চেষ্টা করুন
৭৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক বিল গেটস। তিনি বিশ্বের অন্যতম সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। বিল গেটস ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে রোলিং স্টোনকে বলেন, উন্নতি প্রায়ই কোনো একটি প্রকল্পের মতো মনে হয়, যেখানে নির্দিষ্ট একটি কাজ করা হয় এবং এর বাইরে বড় কোনো কাজ হয় না। কিন্তু আপনি যদি শুধু সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন তাহলে হবে না। এক্ষেত্রে আপনার যা করতে হবে তা হলো ক্রমাগত উন্নতি ও উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাওয়া।

২. ওয়ারেন বাফেট : দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা করুন
বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সফলতম ব্যক্তির কথা বলতে গেলে সবার আগে ওয়ারেন বাফেটের কথা বলতে হবে। তিনি বর্তমানে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক। ওয়ারেন বাফেট বলেন সফল বিনিয়োগের জন্য সময়, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। আপনার প্রচেষ্টা যতই দারুণ হোক না কেন, এটি সফল হতে কিছু সময় লাগবেই।

৩. জেফ বেজোস : উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে ‘ধর্মপ্রচারক’ হয়ে উঠুন
অ্যামাজন ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস নিজের প্রচেষ্টায় তার সম্পূর্ণ সম্পদ গড়েছেন। বর্তমানে তার ৫২.১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। তিনি ২০১০ সালে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ব্যবসাকে একটি ধর্মপ্রচারের মতো বিষয় হিসেবেই দেখেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এটি শুধু ব্যবসা নয়, এটি ব্যবসার চেয়েও বড় কিছু।

৪. মার্ক জাকারবার্গ : হ্যাকারের মতো চিন্তা করুন
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বর্তমানে ৪৯.৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক। তিনি হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি তৈরি করেন ২০০৪ সালে। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। জাকারবার্গ জানান, ক্রমাগত উন্নতি করার জন্য আপনাকে হ্যাকারদের মতোই চিন্তা করতে হবে। হ্যাকররা যেমন বিশ্বাস করেন কোনো বিষয়ে আরও উন্নতি সম্ভব এবং কোনো বিষয়ই পরিপূর্ণ নয়।

৫. ল্যারি এলিসন : অধিগ্রহণ করতে আগ্রাসী হোন
সিআইএর জন্য ডেটাবেজ তৈরি করে ক্যারিয়ার শুরু করেন ল্যারি এলিসন। তিনি বর্তমানে ৪৮.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক। এরপর তিনি ১৯৭৭ সালে ওরাকল নামে ডেটাবেজ সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়াল স্ট্রিটকে তিনি বলেন, আমরা বহু কাজে আমাদের অর্থ ব্যয় করি। আমরা স্টক কিনতে পারি, ডিভিডেন্ডের জন্যও অর্থ ব্যয় করতে পারি। কিন্তু আমরা প্রায়ই বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে অধিগ্রহণ করতে আগ্রহী হই না। যদিও এ বিষয়টি খুবই সম্ভাবনাময়।

৬. মাইকেল ব্লুমবার্গ : কখনোই শেখা বন্ধ করবেন না
নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ বর্তমানে ৪৩.১ বিলিয়ন ডলারের মালিক। তিনি ব্লুমবার্গ এলপির প্রতিষ্ঠাতা। ব্লুমবার্গকে তিনি জানান, তার সাফল্যের সূত্র হলো কখনোই শেখা বন্ধ না করা। সব সময়েই নিত্যনতুন বিষয় শিখতে হবে এবং শেখার এ আগ্রহ কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

৭. চার্লস কোচ : প্রমাণিত ব্যবস্থাপনা স্টাইল ব্যবহার করুন
চার্লস কোচ তার বাবার কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও তিনি কখনোই তাতে থেমে থাকেননি। তিনি বহু ক্ষেত্রেই তার সাফল্য বিস্তৃত করেছেন। বর্তমানে তার মোট সম্পদের অর্থমূল্য প্রায় ৪২.৯ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানান ব্যবস্থাপনায় প্রমাণিত স্টাইল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কেট-বেজড ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য এনে দিতে পারে। এছাড়া ফ্রি স্পিচ, প্রপার্টি রাইটস ও প্রগ্রেস হতে পারে স্বাস্থ্যকর প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়।

৮. বার্নার্ড আর্নল্ট : প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকুন
বার্নার্ড আর্নল্ট বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা এলভিএমএইচের কর্নধার। তিনি ৩৪.৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক। তার প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে বেশ কিছু বিলাসবহুল পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন ‘আমি খুবই প্রতিযোগী মনোভাবসম্পন্ন। আমি প্রতিযোগিদের কাছ থেকে এগিয়ে থাকতে পছন্দ করি এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

৯. ল্যারি পেইজ : ভোক্তার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির দিকে লক্ষ্য রাখুন
লেরি পেইজ সার্চ ইঞ্জিন গুগলের প্রতিষ্ঠাতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার। ল্যারি পেইজ বলেন ব্যবসার সাফল্যের জন্য ভোক্তার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির দিকে লক্ষ্য রাখুন। আপনি চাইলেই ১০ জনকে নিয়ে একটি ইন্টারনেট কোম্পানি খুলতে পারেন, যেখানে থাকতে পারে বিলিয়ন ব্যবহারকারী। এতে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে না। এ থেকে বড় অংকের অর্থ উপার্জনও সম্ভব হবে। এটি স্বাভাবিক ও এ ধরনের বিষয়ে বহু মানুষই এখন মনোযোগী হচ্ছেন।

১০. কার্লোস স্লিম হেলু : ব্যর্থতা থেকে শিখুন
মেক্সিকান এ ব্যবসায়ীর মালিকানায় রয়েছে কয়েকশ প্রতিষ্ঠান। কার্লোসের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৮.২ বিলিয়ন ডলার। তিনি ২০১০ সালে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতে বলেন ‘আমরা যখন সমস্যার মুখোমুখি হই, তারা চলে যায়। এ কারণে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিন এবং সাফল্যকে গোপনে ডেকে আনুন।’






মন্তব্য চালু নেই