মেইন ম্যেনু

ধর্ম গোপন রেখে বিয়ে: অতঃপর…

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রতারণা করে বিয়ের অভিযোগে সালিশীর নামে দুই সংখ্যালঘু সহোদরকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতুব্বাররা।

বুধবার সকালে উপজেলার সরাইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেথুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনায়েত হোসেন মিয়া, ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্যা সালিশীতে উপস্থিত থেকে এ রায় দেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সরাইকান্দি গ্রামের সুকুমার মল্লিক (মরা)’র ছেলে পঙ্কজ কুমার মল্লিক নিজ ধর্ম গোপন রেখে ঢাকার সাভারে সাথী আক্তার স্বর্ণা নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপর পঙ্কজ ও স্বর্ণা দু’জনে দীর্ঘদিন যাবৎ ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করে আসছিল। হঠাৎ করে পঙ্কজ স্বর্ণাকে ফেলে গোপনে নিজ গ্রাম সরাইকান্দিতে পালিয়ে এসে পুনরায় বিয়ে করেন। স্বর্ণা কোন এক মাধ্যমে পঙ্কজের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা জানতে পারে। এক পর্যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বর্ণা তার অভিভাবকদের নিয়ে পঙ্কজের বাড়িতে উঠে।

পরে খবর পেয়ে রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন সামাজিকভাবে বিচারের আশ্বাস দিয়ে পুলিশকে পাঠিয়ে দেয়। বুধবার সকালে ওই গ্রামের সোহরাফ শেখের বাড়িতে স্থানীয় কয়েক শ’ লোকের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বেথুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনায়েত হোসেন মিয়া, চেয়ারম্যান প্রার্থী ক্ষীরোদ রঞ্জন বিশ্বাস, ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্যা ও এলাকার মাতুব্বররা ধর্ম গোপন রেখে প্রতারণা করে বিয়ে করার দায়ে অভিযুক্ত পঙ্কজ মল্লিক (২৮) ও তার ছোট ভাই পীযুষ মল্লিক (২৫) কে ৫০ টি করে জুতাপেটা এবং ৪ লক্ষ টাকা জরিমাণার করেন। এ সময় জুতাপেটা দেখতে ২/৩ শ’ মানুষ উপস্থিত হয়। অনেকে জুতাপেটার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। যা বিভিন্ন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে পীযুষ মল্লিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মাতুব্বররা আমাদের কোন কথাই শোনেনি এবং আমাদের কথা বলার সুযোগ দেয়নি, মেয়ে পক্ষ যা বলেছে, তাই সত্য বলে বিচার করে আমাদের মেনে নিতে বাধ্য করেছে মাতুব্বাররা।’

এ ব্যাপারে বিচারক বেথুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ইনায়েত হোসেন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে, এ ধরণের টুকিটাকি বিচার মাঝে মধ্যে গ্রামাঞ্চলে হয়ে থাকে।

অপর বিচারক ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্যা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিচারটি শরিয়ত মোতাবেক করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরণের কোন তথ্য আমার জানা নেই, তবে যারা বিচার করেছে তারা অন্যায় করেছে।’

এ ঘটনার পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটি চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে জীবনযাপন করছে।






মন্তব্য চালু নেই