মেইন ম্যেনু

ধর্ষণের প্রতিবাদের ব্যানার কেড়ে নিল পুলিশ

মাদারীপুরে দুই স্কুলছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানার কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। পরে এ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় পুলিশ একজনকে আটক করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা কারণ জানতে চাইলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে শহরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্কুলছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এ এইচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

স্কুলের অধ্যক্ষ গাউছুর রহমান বলেন, তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার পর পুলিশ বাধা দেয় এবং তাঁদের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা এসে কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়। পরে মানববন্ধন না করেই তাঁরা ফিরে যেতে বাধ্য হন।

মাদারীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল ঘোষ বলেন, মানববন্ধনের আয়োজকেরা পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেননি। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাধা দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ রহমান বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় দাঁড়ায় তাহলে অনুমতি নেওয়াটা জরুরি নয়। পুলিশ কেন বাধা দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।’

গত বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপি আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে। গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষ হলে সুমাইয়ার বাবা বিল্লাল শিকদার বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর গত শুক্রবার মামলা হলেও ধর্ষণের অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর থানায় গেলে পুলিশ রাতভর তাঁদের সেখানে আটকে রাখে।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মেয়ে দুটির পূর্বপরিচিত তরুণেরা পরিকল্পিতভাবে বিষমিশ্রিত কোমল পানীয় পান করিয়ে তাদের হত্যা করেছে। ধর্ষণের আলামত না পাওয়ায় এ অভিযোগটি মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।






মন্তব্য চালু নেই