মেইন ম্যেনু

ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাড়িছাড়া হতে বসেছেন হতভাগ্য এক মা

টিপু সুলতান (রবিন) : গত ১২ জুলাই সময় সন্ধ্যা ৭.৪৫ মিনিট। সাভারের আশুলিয়া থানায় নথিভুক্ত হয় ১১ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলা। ধর্ষণকারী স্থানীয় প্রভাবশালী চার যুবককে আসামি করে মামলাটি করেন ধর্ষিতার হতদরিদ্র অসহায় মা। পরদিন সকালে শিশুটিকে শারিরীক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। কিন্তু শুধুমাত্র মেডিকেল রিপোর্টের জন্যই পেরিয়ে গেছে ঘটনার এক মাস। তাই মামলার আসামিরাও ঘুরে বেরাচ্ছে প্রকাশ্যে। ধর্ষণের মত অপরাধ ঘটিয়ে যে সময় তাদের গারদে থাকার কথা ছিলো তখন তারা উল্টো ধর্ষিতার পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ইতোমধ্যে এলাকার লোকজন লেলিয়ে দিয়ে ঘড়ছাড়াও করেছে মেয়েটিকে। এখন আপোসের জন্য মামলা তুলে নিতে অবিরত দিয়ে যাচ্ছে প্রাণনাষের হুমকি আশুলিয়ার চারালপাড়ার একটি টিনসেডের ঘড়ে দুই মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন স্বামী পরিত্যক্তা ধর্ষিতা মেয়েটির মা। আগে গার্মেন্টে কাজ করলেও তা বখাটেদের যন্ত্রণায় ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে।

অসহায় স্বামী পরিত্যক্তা ধর্ষিতার মা আওয়ার নিউজ প্রতিবেদককে বলেন, জুলাই মাসের ১০ তারিখ সন্ধ্যায় দুসম্পর্কের মামাতো ভাই সোহেলের সাথে একটু দূরে খালার বাড়িতে টিভি দেখতে যায় তার মেয়ে। এসময় সড়কের পাশে আড্ডারত অবস্থায় স্থানীয় প্রভাবশালী মো. হুরমতের বখাটে ছেলে সোহাগ, তার দুই বন্ধু শুশান্ত ,রাসেলও শান্ত মিলে সোহেলসহ তার মেয়েকে আঁধা কিলোমিটার দূওে জনতা হাউজিং নামের প্রাচীরে ঘেরা নির্জন মাঠে নিয়ে যায়। পরে মাঠের পাশে সোনালী আক্তারের বাড়ির একটি কক্ষে তার মেয়েকে জোরপূর্বক যৌন উত্তেজক ঔষধও সেবন করানো হয়। পরে তার মেয়েকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে সোহাগ ও তার সহযোগীরা। এসময় সোহেলকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার দিন গভীর রাতে তার মেয়েকে বাসার সামনে রেখে যায় সোহাগ ও তার লোকজন। পরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে ১১ জুলাই সকালে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ধামরাই থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করে। এরপর ১২ জুলাই প্রাথমিক আলামত ও তথ্য সংগ্রহের পর আশুলিয়া থানা পুলিশ প্রথমে একটি অভিযোগ ও পরে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করে। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রভাবশালী হুরমত আলীর ছেলে সোহাগ বা অন্য আসামিদের কাউকেই পুলিশ আটক করতে পারেনি।

তিনি আরো জানান, মেয়ে ধর্ষণের বিচার পেতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমানের কাছে আসামিদের আটকের জন্য বারবার তাগিদ দেন তিনি। কেননা অপরাধীরা মামলা উঠিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে প্রভাবশালী হুরমতের ছেলে যে তাদের হুমকি দিয়ে আসছিলো। সাথে এলাকার লোকজনের কটুকথায় তিক্ত হয়ে উঠেছিলো তারা। কোন উপায়ন্তু না পেয়ে মেয়ের পড়াশুনা বন্ধ করে একজনের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। তবু ক্ষান্ত হয়নি অপরাধী ধর্ষক সোহাগ। আপোসে রাজি না হওয়ায় এরপর থেকে তাকে এলাকা ছাড়া করতে উঠেপড়ে লেগেছে অপরাধীরা।

এদিকে ধর্ষক সোহাগের বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী এব্যাপারে কোন কথা বলতে না চাইলেও জনতা হাউজিংয়ের এই কক্ষটিতেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো বলে জানান নাম প্রকাশে অননিচ্ছুক এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পাওয়া যায়নি জনতা হাউজিংয়ে বসবাসরত সেই বাড়ির মালিক সোনালী আক্তারকেও।

ধর্ষিতা পরিবারের এত সব অভিযোগের সত্যতার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান দ্বায়সারা জবাব দেন। এসময় তিনি বলেন, ধর্ষিতা শিশুর কথিত মামাতো ভাই সোহেল মামলার প্রধান স্বাক্ষী। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এমনকি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিবেদন এখনও হাতে পাইনি। তাই আসামি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলা আপোসের ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করে খুব শীঘ্রই দোষীদের আটক করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। অন্যদিকে নির্ভও যোগ্যসূত্রে জানাযায় ধর্ষক সোহাগ ও তার সহযোগী প্রকাশ্যে ঘুওে বেড়াচ্ছে।

ধর্ষিতার মায়ের প্রশ্ন আমার গরিব বলে আমাদের সাথে যা ইচ্ছে তাই হবে আর বিচার চাইলে এলাকা ছাড়তে হবে। আমাদের পাশে দাড়ানোর মত কেউ কি নেই?



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই