মেইন ম্যেনু

ধর্ষণের হুমকি দিয়ে ছিনতাই, দুই ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রেমিকাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে আনছার আলী লিমন নামে এক যুবকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাংকের বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদের মধ্যে রাজীব বাড়ৈ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং অমিত কুমার দাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনই ছাত্রলীগের কর্মী বলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান। এছাড়া সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হয়ে শাহবাগ থানায় থাকা অবস্থায় রাজীব নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন।

গত ১৬ অগাস্ট ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া নাট্যকর্মী আনসার আলী লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অমিত ও রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান শাহবাগ থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে লিমন জানান, ‘ওইদিনের পর থেকে ছিনতাইকারীদের খুঁজে বের করতে প্রত্যেকদিন টিএসসিতে আসতাম। আজও (সোমবার) সন্ধ্যার পর টিএসসি সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির পাশে এসে দেখি দুই ছিনতাইকারী রিকশায় বসে আছে। সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ থানায় খবর দেই। এরপর পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে।

এ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রথমে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় রাজীব নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে। পরে ঘড়ি, হাতের আংটি আর পায়ের স্যান্ডেল ব্যাংকের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিলে গেছে জানানোর পর সে নীরব হয়ে যায়।

গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে প্রেমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে একটি অপরাধী চক্র। এ ঘটনায় আনছার আলী লিমন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় ওই রাতেই একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১৭ আগস্ট তা নিয়মিত মামলা হয়।

১৭ আগস্ট বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এসে লিমন সাংবাদিকদের কাছে ওই ঘটনা খুলে বলেন।

আনছার আলী বলেন, ‘রোববার রাত ৮টায় প্রেমিকাসহ টিএসসি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে মগবাজারের বাসায় ফিরছিলাম। শিখা চিরন্তনী পার হওয়ার পর হঠাৎ পাঁচজন ছেলে এসে আমাদের দুজনকে ঘিরে ধরে। তারা বলে দেখি ব্যাগের ভেতর কী আছে? ইয়াবা-কনডম কিছু আছে কি না? এই বলে তারা ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগসহ সবকিছু কেড়ে নেয়।

এরপর তারা দুই-তিনটি আওয়াজ করে। পরক্ষণেই ১৫/২০ জন ছেলে চলে আসে। তারা এসেই আমার প্রেমিকাকে একদিকে আর আমাকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। বলে, কেউ আওয়াজ করবি না। যতগুলো ছেলে আছে তোর গার্লফ্রেন্ডকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে। আওয়াজ করবি তো মরবি। তোর গার্লফ্রেন্ডও ধর্ষণের শিকার হবে। এ কথা বলেই তারা শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।

তারা আমার মানিব্যাগ চেক করে এটিএম কার্ড পায়। ওই কার্ডের পাসওয়ার্ড জানতে চাইলে আমি তাতে অস্বীকৃতি জানাই। তারা আমার প্রেমিকাকে গণধর্ষণের হুমকি দেয়। সে কাঁদতে থাকে। আশেপাশে অনেকে থাকার পরও কেউ এগিয়ে না আসায় ভয়ে এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড জানাই। পাসওয়ার্ড পাওয়ার পর তারা বলে, এটা সঠিক হলে তোরা ছাড়া পাবি। আর ভুল হলে খবর আছে। এরপর তারা দুজন টিএসসির ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে যায়।

ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৫৬ হাজার টাকা ছিল। সেখান থেকে তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয় তারা। টাকা তুলে নিয়ে আসার পর তারা আমার মোবাইলে বিকাশ করা আছে কিনা তা জানতে চায়। এরপর তারা বিকাশের পিন নম্বর নিয়ে ২ হাজার টাকা ‘সেন্ড মানি’ করে নেয়। আমার প্রেমিকার গলার চেইনটিও ছিনিয়ে নেয়। তারপর আমাদের ছেড়ে দিয়ে বলে, সোজা চলে যাবি। কোনো আওয়াজ করবি না। এরপর আমরা বের হয়ে শাহবাগ থানায় যাই। থানায় মামলা করতে চাইলেও ওসির নির্দেশে জিডি করা হয়।

আনছার আলী বলেন, কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে এভাবেই আমার এক বান্ধবীকে জিম্মি করে এটিএম কার্ড দিয়ে টিএসসির বুথ থেকে ৪০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। শাহবাগ থানায় সেটির জিডি করা হলেও এখনো কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।

ঘটনার পরদিন এ প্রসঙ্গে ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেছিলেন, ব্যাংকের কাছে ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে অপরাধী ওই গ্রুপকে চিহ্নিত করা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল থেকে ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। সেটি ট্র্যাকিংয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি এখন নিয়মিত মামলা হবে। খুব শিগগিরই অপরাধী গ্রুপকে পাকড়াও করা সম্ভব হবে।






মন্তব্য চালু নেই