মেইন ম্যেনু

ধর্ষনের শিকার গৃহবধুঁর ইজ্জতের মূল্য ২৫ হাজার

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এক ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ধর্ষিতা মামলা করতে চাইলেও বাঁধা দেয়া হচ্ছে। ধর্ষিতাকে আইনি সহযোগীতা দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ নারী সংগঠন গুলোর হস্তক্ষেভ কামনা করছেন ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষিতা গৃহবধুঁ ও তার স্বামীর অভিযোগে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের সাতজান গ্রামের মৃত জনাব আলীর পুত্র দিনমুজুর ফরিদ হোসেন তার স্ত্রী লায়জু বেগম (২৫) ও তার ২ সন্তানকে বাড়ীতে রেখে কাজ করার জন্য গত ১৪ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি যায়।

স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে একই গ্রামের ধনাঢ্য মোক্তার আলীর পুত্র ২ সন্তানের জনক জাহাঙ্গির আলম (৩০) গত ১৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে ঘরে ঢুকে লায়জু বেগমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষন করে।

এ সময় ধর্ষিতার চিৎকারে প্রতিবেশী লোক ছুটে আসলে ধর্ষক জাহাঙ্গির পালিয়ে যায়। ঘটনার কথা প্রকাশ করে থানায় মামলা করতে চাইলে ধর্ষক পক্ষের লোকজন উল্টো ধর্ষিতাকেই মারমিট করাসহ মামলা না করার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ধর্ষিতার স্বামী ফরিদ হোসেন খাগড়াছড়ী থেকে গত বৃহস্পতিবার বাড়ীতে ফিরে আসেন।

পরের দিন শুক্রবার সকালে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মামলা করার জন্য ডিমলা থানায় রওনা দিলে এলাকার একটি দেওয়ানি চক্র তাদেরকে রাস্তায় আটক করে। পরে তাদেরকে এক স্থানে নিয়ে ২৫ হাজার টাকায় ধর্ষনের ঘটনাটি সালিশ করে দিয়ে ধর্ষিতা ও তার স্বামীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ীতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ধর্ষক পক্ষের লোকজন ধর্ষিতাকে নজরবন্দি করে রেখেছেন। যাতে করে ধর্ষিতা ঘটনার বিষয়ে মামলা করার জন্য কোথাও যেতে না পারে কিংবা ঘটনার বিষয়ে কারো কাছে মুখ খুলতে না পারে।

এমতাবসস্থায় ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজন চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ধর্ষনের ঘটনাটি এলাকার ছড়িয়ে পড়লে গত সোমবার সরজমিনে ধর্ষিতা ও তার স্বামীর সাথে কথা বলতে তাদের বাড়ীতে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তারা (স্বামী-স্ত্রী) উপরোক্ত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে পুর্ব সাতজান জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর সামাদের কাছে ঘটনার কথা চাইলে তিনিও ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এক পর্যায় তিনি বলেন, শুনেছি ধর্ষনের ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসা হয়েছে। এলাকার একটি সূত্র জানায়, ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও এলাকার কয়েকজন দেওয়ানির পকেটেস্থ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

একই গ্রামের মৃত ওসমান গনির পুত্র মোসলেম উদ্দিন বাবুও জানান, ঘটনাটি আপোষ-মিমাংসা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিন্টু বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে ধর্ষনের ঘটনা আপোষ-মিমাংসা যোগ্য নয়।






মন্তব্য চালু নেই