মেইন ম্যেনু

ধর্ষিতাদের ছেঁড়া পোষাকের সন্ধানে হরিয়ানার পুলিশ

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে সংরক্ষণের দাবীতে সম্প্রতি যে হিংসাত্মক আন্দোলন চলছিল, সেই সময়ে কয়েকজন আন্দোলকারীদের হাতে অন্তত ১০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনও অভিযোগ জমা না পড়ায় প্রথমে পুলিশ এই ঘটনার কথা অস্বীকার করছিল।

ওই কথিত ধর্ষনের ঘটনাস্থলে নারীদের ছেঁড়া পোষাক খুঁজে পায় সংবাদমাধ্যম। তারপরেই হরিয়ানা পুলিশ তিনজন নারী অফিসারকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। ওই দলটি আজ থেকে তদন্ত শুরু করেছে।

চাকরী আর শিক্ষায় সংরক্ষণের দাবীতে গত সপ্তাহে যখন গোটা হরিয়ানায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছিল, সেনা নামাতে হয়েছিল, তার মধ্যেই মুর্থাল এলাকায় বেশ কিছু গাড়ি থামিয়ে দিয়ে, যাত্রীদের নামতে বাধ্য করে গাড়িগুলি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল গত রবিবার রাতে।

একটি সংবাদপত্র বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খবর ছাপে, যে গাড়িগুলি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার নারী যাত্রীদের ধর্ষণ করা হয় সেই রাতে। সংরক্ষণের দাবীতে আন্দোলনরত জাঠ সম্প্রদায়ের লোকেরাই মহাসড়কের পাশে একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ওই নারীদের ধর্ষন করে বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশের কাছে অবশ্য কেউই এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ জানান নি। তাই পুলিশ ওই ঘটনার কথা অস্বীকার করছিল।তবে ওই এলাকায় নারীদের পোষাক, চটি প্রভৃতি পড়ে থাকার খবর সামনে আসার পরে নড়েচড়ে বসে হরিয়ানা প্রশাসন।

তিনজন নারী পুলিশ অফিসারকে নিয়ে একটা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠিত হয় শুক্রবার। আজ সেই দলটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে তদন্তের কাজ শুরু করেছে। ওই তদন্ত দলের প্রধান, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল রাজশ্রী সিং সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, “যেসব পোষাকের টুকরো পাওয়া গেছে, সেগুলো ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ব্যাপারে কোনও অভিযোগ কারও কাছ থেকেই জমা পড়ে নি। তাই আসলে কী হয়েছিল, সেটা খুঁজে বার করা আমাদের কাছে একটা শক্ত পরীক্ষা।“

এর আগে স্থানীয় পুলিশ দাবী করেছিল, যে কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা, সেগুলোর মালিকদের চিহ্নিত করে প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এমনকি নারী যাত্রীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কেউই ধর্ষণের কথা জানান নি।

ওই ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার দূরে একটি অতি জনপ্রিয় ধাবা বা পথচলতি খাবারের দোকান রয়েছে। তার মালিকও জানিয়েছেন যে কয়েকজন নারী পুরুষ তাঁর ধাবায় আশ্রয় নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীদের হাত থেকে বাঁচতে, তবে তাঁরা কেউই ধর্ষণের কথা বলেন নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি অবশ্য বলছে পুলিশ আসলে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছে।

তবে আজ একজন ট্রাক চালক সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে জানিয়েছেন যে তিনি সেই রাতের ঘটনা অনেকটাই দেখেছেন।

তদন্তকারী দলের প্রধান রাজশ্রী সিং আবেদন জানিয়েছেন, “ওই ব্যক্তি যদি কিছু দেখে থাকেন, তাহলে আমাদের কাছে এসে উনি সব কিছু জানান।“

ভারতে কোনও আন্দোলন-বিক্ষোভ চলাকালীন গণধর্ষণের এধরণের ঘটনা খুবই বিরল। জাঠ সম্প্রদায়ের ওই বিক্ষোভও যথেষ্টই বিরল, যেখানে অস্ত্র হাতে হাজার হাজার মহিলা, কিশোর, যুবকরা রাস্তায় নেমে যথেচ্ছ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে কয়েকদিন ধরে। ওই বিক্ষোভ সামাল দিতে সেনা নামাতে হয়েছিল। হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় কার্ফু জারি করেও বিক্ষোভ সামলানো যায় নি, তাই গুলি চালাতে হয়েছিল, যাতে গোটা রাজ্যে মারা গেছেন অন্তত তিরিশ জন। সূত্র: বিবিসি।






মন্তব্য চালু নেই