মেইন ম্যেনু

ধূমকেতুতে বিশুদ্ধ অক্সিজেন, বিজ্ঞানীরা হতবাক

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এ এক বড় খবর। ধূমকেতুকে সন্ধান মিললো অতি প্রয়োজনীয় মৌলিক গ্যাস অক্সিজেনের। তাও আবার বিশুদ্ধ অবস্থায়। যেখানে সক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ কারণে অক্সিজেনকে প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অবস্থায় খুব কমই পাওয়া যায়।

গতকাল বুধবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অপ্রত্যাশিতভাবে তারা ধূমকেতুতে বিপুল পরিমানে অক্সিজেনের সন্ধান পেয়েছেন।

ধূমকেতুকে অক্সিজেনের সন্ধান পাওয়াটাকে বিজ্ঞানীরা ‘বড় চমক’ হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু বিইলার বলেন, ‘এই আবিষ্কার আমাদের সৌরজগৎ গঠনের মূলধারার তত্ত্বকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বসলো।’

ধূমকেতুতে অক্সিজেনের অস্তিত্ব পরিমাপের কাজটি করেছে মহাকাশযান রসেটা প্রোব।

অ্যান্ড্রু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গ্যাসের বলয় বেষ্টিত ধূমকেতুটি গঠনের আগে থেকেই অক্সিজেন অণু ছিল কিংবা সম্প্রতি এতে অক্সিজেন অণু যোগ হয়েছে।

এই আবিষ্কার মানবজাতির জন্য আশাব্যঞ্জক। কেননা, ৪৬০ কোটি বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে গঠিত হওয়া সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই অক্সিজেন অনেক আগের। যা আমাদের সৌরজগতের চেয়েও পুরনো ‘

যদিও এর আগে বিজ্ঞানীরা ধূমকেতুতে অক্সিজেনের অস্তিত্ব নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন। এমনকি তারা এটাকে আমলেই নেননি। বিশেষ করে ধূমকেতু ৬৭পি যেটার অন্য নাম চুরাইয়ুমভ-গিরাসিমেনকো নিয়ে ইউরোপীয় গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচার’ এর সহ-লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব বার্ন এর গবেষক ক্যাথরিন অ্যাল্টউইগ বলেন, ‘অক্সিজেন খুব সহজেই অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আমরা কখনোই চিন্তা করিনি যে, অক্সিজেন বিশুদ্ধ অবস্থায় বিলিয়ন বছর টিকে থাকতে পারে।’

ধূমকেতুতে অক্সিজেনের সন্ধান পাওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এই প্রাচীন মৌলটি আমাদের সৌরজগৎ গঠনের মূল তত্ত্বকে নতুন করে ভাবাবে।

সম্প্রতি ৬৭পি নামের এই ধূমকেতুটি খুঁজে পেয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসেটা সুপারক্র্যাফট।






মন্তব্য চালু নেই