মেইন ম্যেনু

নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি

নওগাঁর আত্রাইয়ে সোমবার ভোর রাতে উপজেলার মিরাপুর নামক স্থানে রাস্তা কাম বাঁধ ভেঙ্গে আত্রাই উপজেলার সাথে নওগাঁর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ, উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল নওগাঁর ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আত্রাই-রাণীনগরের বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাযায়, ছোট যমুনার পানি বিপদসীমার ৬২সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি-উদনপৈ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১টি পয়েন্টে এবং মিরাপুর নামক স্থানে আত্রাই-নওগাঁ সড়ক ভেঙ্গে প্রবলবেগে যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

বন্যার পানি প্রবলবেগে প্রবেশ করায় মিরাপুর নামক স্থানের পল্লী বিদ্যুতের মেইন সঞ্চালন লাইনের একটি খুটি ভেঙ্গে পড়ায় পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার কাশিয়াবাড়ি, বান্ধায়খাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গণের আশংকা দেখা দিয়েছে। নওগাঁ-আত্রাই সড়ক ভাঙ্গনের কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সল্পকিছু সিএনজি ও ভুটভুটি চলাচল করলেও অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে বলেও যাত্রীদেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে বন্যার ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চলতি রোপা আমন ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাথে সাথে শতাধিক মাছ চাষির পকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বেশকিছু স্কুল ডুবে যাওয়ায় ওই সকল স্কুলে ছুটির ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবার কিছুকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ত্রান সামগ্রি দেওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে উপজেলার ফুলবাড়ি, উদপেয়, পূর্বমিরাপুর, মিরাপুর, মির্জাপুর, তারাটিয়া, মাগুড়াপাড়া, আকবর পুর, ছোটডাঙ্গা, বড় ডাঙ্গা, উচল, কাশিমপুর , ঝনঝনিয়া, শাহাগোলা, বহলা, চাপড়া, বেড়াহাসনসহ প্রায় ৩৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানিতে দ্রুত তলিয়ে যাচ্ছে আত্রাই উপজেলার প্রাই ৫ হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানের ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসল।

এদিকে উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া ও হাটকালুপাড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বলরামচক, শিবপুর, মালিপুকুর, চকবিষ্টপুর, গুরলয়, স্টুকিগাছা, জাতোপাড়া, রসুলপুর, মহাদিঘী, দরগাপাড়া, আত্রাই মাছবাজারসহ বিভিন্ন গ্রামের বেশকিছু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে সরকারি রাস্তায় এবং উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আর যেন কোথাও ভাঙ্গন না ভাঙ্গে সে জন্য এলাকাবাসি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সড়ক রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সোমবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.এম এ আজিজসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ।রোববার বিকেল থেকে নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চালিক সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ভাবে সড়কটি রক্ষার করার চেষ্টা করা হলেও সরকারি ভাবে কোন সহযোগিতা করা হয়নি এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয়রা শাহাগোলা ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় শাহাগোলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন (চান্দু) জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা ও আত্রাই-নওগাঁ মেইন রোড ফাটল দেখা দেয়ারপর স্থানীয় ভাবে রাস্তা রক্ষার জন্য চেষ্টা করে সম্ভব হয়নি।

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, আত্রাই-নওগাঁ মেইন সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এলাকাবাসি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অন্য কোথাও যেন আর না ভাঙ্গে।






মন্তব্য চালু নেই