মেইন ম্যেনু

নওগাঁয় সরকারের চাল ক্রয়ে বন্ধ মিলারদের সঙ্গে চুক্তির শঙ্কা

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : চলতি বোরো মৌসুমের চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় সরকার খাদ্য উদ্বৃত্ত নওগাঁ থেকে ২০ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন চাল কিনা হবে। তবে মাত্র ৫ কার্যদিবসে মধ্যে জেলার ১১টি উপজেলায় চাউল ব্যবসায়ীদের মনিটরিং শেষে চালু মিলারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ দিকে জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার যোগসাজশে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ৫০ ভাগ চাউল মিলারদেরও সাথে চুক্তি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচল চাউল ব্যবসায়ীরা।

মিলার ব্যবসায়ীরা নাম না প্রকাশ করা স্বর্তে জানিয়েছেন, বিভাগীয় আঞ্চলিক কর্তকর্তা, জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ জেলা সদরসহ ১১টি উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন ধান, চাউল ও গম কেনা ও বরাদ্ধের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়ে থাকে। এই অনিময়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে বিজ্ঞ আদালতে জেলা প্রশাসক, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নয় জনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেন নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার মেসার্স নিশি চালকলের মালিক শফিকুল আলম। এ ঘটনার পর উধ্বর্তন কর্মকর্তারা নিজেদের বাঁচাতে গত বছর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীকে বরখাস্ত করা হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, কৃষি প্রধান অঞ্চল এ জেলায় প্রায় ৭২ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়ে থাকে। জেলায় গত ইরি-বোরো মৌসুমে এক লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এ থেকে গত ইরি-বোরো মৌসুমে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁয় প্রতি বছর প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক ট্রন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
জানা গেছে, জেলায় প্রায় ছোট-বড় ১২শ’ চালাত (চাউল মিল) রয়েছে। এর মধ্যে হাসকিন রাইস মিল প্রায় সাড়ে ১১শ’ আর বাঁকিগুলো অটো রাইস মিল। গত কয়েক বছরে ধানের দামের তুলনায় চাউলের দাম না থাকায় জেলার অধিকাংশ হাসকিন মিল লোকসান ও ঋণের জালে জড়িয়ে বন্ধ হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া এ সব অধিকাংশ মিলে এখন মুরগীর ফার্ম, গরুর খামার করেছেন। আবার অনেক মিলার ভাড়া দেয়ার জন্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রেখেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির নওগাঁর সাধারণ সম্পাদক মহসিন রেজা জানান, জেলার ৮০/৮৫ ভাগই যেখানে কৃষক সেখানে কৃষকদের স্বার্থ না দেখে চাতাল মিলারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যেই সরকার ব্যাস্থ দেখা যাচ্ছে। তা না হলে প্রতি কেজি চাল উৎপাদন করতে যেখানে মাত্র ২৬/২৭ টাকা হচ্ছে সেখানে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার বড়বড় মিলারদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে অল্পদামে ধান কেনা হয়েছে। এখন কৃষকের হাতে কোন ধান নেই। ধানের দামও চড়া। সরকারি এই সুযোগে চাতাল ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবেন। কৃষকদের হাতে যখন ধান ছিল তখন ধান-চাউল না কেনাকে মন্ত্রণালয়ের কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ড বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান, সরকারের এই উদ্যোগ ভালো হলেও ধান সংগ্রহে কৃষকরা হয়রানি, দূর্নীতিমুক্ত চাউল কেনা ও তা সময় মতো বাস্তবায়ন করা দরকার। খাদ্য বিভাগ আমলাতান্ত্রিক নির্ভর। আমলাদের ক্ষমতা খর্ব করে মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সেজে কৃষি বান্ধব করার দাবি জানান এ রাজনৈতিকবিদ।
জেলা চাউল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, প্রভাবশালী নেতাকর্মী ও মধ্যস্বত্বভোগিদের সিন্ডিকেটের কারণে অতীতে কোন সময়ই কৃষক সরকারি মূল্যে গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারেনি।

এ বছরও প্রায় একই রকম হয়েছে। বর্তমানে ৬০ কেজি ধানে ৩৮/৩৯ কেজি চাউল উৎপাদন হয়। ধানের দাম অনুযায়ী চাউলের উৎপাদন খরচ হচ্ছে সাড়ে ২৬/২৭ টাকার মত। প্রতি কেজি চাউল ৩২ টাকা দাম নির্ধারণ করায় চাতাল মিলারদের কিছুটা লাভ ভালো হবে বলে মনে করেন।

তিনি আরো জানান, জেলার প্রায় ১২শ’ চাতাল ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ ভাগ চাতাল ব্যবসায়ীর ঋণ, লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী মাসের ৪ তারিখের মধ্যে চাতাল (চাউল) ব্যবসায়ীদের সরকারের সাথে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। সরকারি কার্যদিবস হাতের পাওয়া যাবে মাত্র ৫ দিন। এর মধ্যে চালু ও বন্ধ মিলারদের যাচাই-বাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বন্ধ হওয়া মিলারদের লাইসেন্স থাকায় তারাও সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) আনোয়ার হোসেন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সারাদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত ২৬ জুলাই বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে নওগাঁয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। নির্দেশে জানানো হয়েছে নওগাঁ থেকে ২০ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন চাল কিনা হবে। ইত্যে মধ্যে নওগাঁর প্রায় ১ হাজার ২০০ জন মিলার চাল সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মিলারদের সাথে চুক্তির এই কার্যক্রম চলবে ৪ আগষ্ট পর্যন্ত।কিন্তু রিপোট লেখা পর্যন্ত কোন মিলারদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন হয়নি। রবিবার থেকে সদরসহ জেলার ১১টি উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও মিলারদের মনিটরিং শেষে দ্রুত চুক্তি সম্পাদন শুরু করা হবে। ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত চাল সংগ্রহ করা হবে।

অপর এক প্রশ্নে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ইতি পূর্বেও খাদ্য বিভাগের কোন কর্তকর্তা অনিময়ের সাথে জড়িত ছিলেন না। চলতি মৌসুমে কোন অনিময় হওয়ার সম্ভবনা নেই। কারো বিরুদ্ধে কোন অনিময় পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত বছর এক অনিময়ের কারণে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলীকে বরখাস্ত করা হয়।#






মন্তব্য চালু নেই