মেইন ম্যেনু

নতুন যুগে নেপাল, ব্যাপক বিক্ষোভ

২০ সেপ্টম্বর ২০১৫, রোববার। নেপালের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিন থেকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রবেশ করল হিমালয় কন্যাখ্যাত দেশটি।

দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও ভূমিকম্পে ক্ষতবিক্ষত দেশটি রোববার পূর্ণ গণতান্ত্রি ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান গ্রহণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন নেপালের ৬৫ বছরের ইতিহাসে আধুনিক রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা শুরু করল তারা।

এদিকে নতুন সংবিধান গ্রহণের দিন নেপালে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে সংখ্যালঘু মাধেসি সম্প্রদায়। রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রের পক্ষের সমর্থকরাও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

বিক্ষোভকালে পুলিশের গুলিতে মাধেসি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন সংবিধানের বিপক্ষে দক্ষিণের পারসা জেলায় সংখ্যালঘু হাজার হাজার মাধেসি জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।

পারসার জেলা প্রধান কাশিব রাজ গিমিরে নিউজ এজেন্সি এএফপিকে টেলিফোনে বলেন, কারফিউ ভঙ্গ করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন।

বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথর ও ভাঙা বোতলের আঘাতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয় বলে জানান তিনি।

নতুন সংবিধানে সর্ব ধর্ম ও সংস্কৃতিকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বলেছেন, এ সংবিধান হিন্দু ধর্মের প্রাধান্যই সূচিত হয়েছে।

মাওবাদীদের সঙ্গে ১০ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান হলে ২০০৬ সালে এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নতুন সংবিধানের দাবিটি সামনে আসে। ২০০৮ সালে মাওবাদীরা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায় তারা।

২০১৩ সালের নভেম্বরে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হলে নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। অবশেষে দীর্ঘ বিতর্কের পর গত বুধবার পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে খসড়া সংবিধান পাশ হয়।

নতুন সংবিধানে হিন্দু রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দেশটির অধিকাংশ হিন্দু রাজাকে বিষ্ণুর অবতার মনে করেন।

নতুন সংবিধানে সব ধরনের ধর্মান্তকরণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খ্রিষ্টধর্মে রূপান্তরের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল দেশটির অনেক নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ধর্মান্তকরণের পথ থেকে রক্ষা করবে এ সংবিধান।

নাগরিক অধিকার সুরক্ষাসহ নারীর বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ করা হয়েছে। নতুন সংবিধানে সমকামী নারী-পুরষের অধিকারসহ তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার সমুন্নত রাখার কথাও বলা হয়েছে। নতুন সংবিধানে গরুকে জাতীয় প্রাণির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও আল জাজিরা অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই