মেইন ম্যেনু

ননী-তাহেরের রায় পড়া শুরু, নিরাপত্তা জোরদার

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোণার মো. ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর মামলাটির রায় পড়া শুরু হয়েছে। ছয়টি অভিযোগের মধ্যে চারটি বা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২৬৮ পৃষ্ঠার এ রায় পড়ে শোনাচ্ছেন সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। এ ছাড়া রায়ের মূল অংশটি পড়ে শোনাবেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম আনোয়ারুল হক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিরস্ত্র মানুষকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ এবং হত্যার ছয় অভিযোগ রয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে।

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় দেবেন। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

ননী-তাহেরের রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মৎস ভবন গেইট, প্রধান ফটক এবং মাজার গেইটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন মাজার গেইটে নিরাপত্তাকর্মীদের আধিক্য লক্ষ করা গেছে। এমনকী এখানে একটি সাঁজোয়া যানও রাখা হয়েছে।

বাইরে থেকে আগত ও সন্দেহভাজনদের দেহে তল্লাশি করে তাদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। রায়কে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে মোট চার কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নী এবং আসামিপক্ষে তাহের-ননীর আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার ও গাজী এম এইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

প্রসিকিউশন তার যুক্তিতর্কে দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। এজন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আরজি জানানো হয়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেননি প্রসিকিউশন। তাই এসব অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আরজি জানানো হয়।

গত ১৩ আগস্ট এ দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্র্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।

গত ১২ আগস্ট এ দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ট্রাইব্যুনালের আদেশের ভিত্তিতে নেত্রকোণা পুলিশ তাদেরকে একই দিনে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ছয়টি অভিযোগের ওপর বিচার কার্য পরিচালনা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার আসামি ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননী অভিযুক্ত হয়েছেন হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, দেশান্তরকরণ, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে। এর মধ্যে রয়েছে ৪২ জনকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা-গণহত্যা, দুই পরিবারকে বাড়ি দখল ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে দেশান্তরকরণ এবং প্রায় সাড়ে ৪শ’ বাড়ি ঘরে লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে থাকা চারটি অভিযোগ থেকে দু’টি বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জ) ছয়টি অভিযোগ দাখিল করেছিলেন প্রসিকিউশন। ওই ছয়টি অভিযোগকেই আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই