মেইন ম্যেনু

নবাগত নায়িকারা কী চান?

অনেক সিনেমা তৈরি হচ্ছে, বহু ছেলেমেয়ে কাজ করছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু কয়েক মাস গেলেই আর তাদের বড় পর্দায় দেখা যায় না। কোথায় যান তারা? বিশেষ করে নায়িকারা? তারা কি তাহলে হারিয়ে যান? চলচ্চিত্র অঙ্গনে কেনই বা আসেন তারা? নাম, খ্যাতি, যশ, অর্থ না কি শিল্পীর সম্মান, কোনটা চান এই নবাগত নায়িকারা?

পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘চলচ্চিত্র তো আর টিভি নাটক না যে শুটিংয়ের সময় কয়েকটা সেলফি দিলাম আর দর্শক জেনে গেল আমি অভিনয় করি। এখানে টিকতে হলে সেলফিতে কাজ হবে না। ভালো অভিনয়, ভালো ব্যবহার, কাজের প্রতি আগ্রহই একজন অভিনয়শিল্পীকে টিকিয়ে রাখবে। এখন যারা কাজ করে তারা দু-একটা ছবি করেই বেশি টাকায় কাজ করতে চায়। একবার ভেবেও দেখে না তাদের ছবি কয়জন দেখছে। কেন দেখছে না, সেটাও চিন্তা করে না। অভিনয় থেকে টাকার পেছনে দৌড়াচ্ছে সবাই। অভিনয়-পাগল তেমন কেউ আসছে না। এ কারণে অনেক ছেলেমেয়ে এলেও দর্শকের মনে তেমন কেউ জায়গা করতে পারছে না। আমার আশা থাকবে, শিল্পীরা অভিনয়ের প্রতি সময় দেবে এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে চলচ্চিত্রে। আর শুধু অভিনয় করলেই হবে না, জানতে হবে কার সঙ্গে কাজ করছে, গল্পকার কে, কারা অভিনয় করছে- এসব জেনেই কাজ করা উচিত।’

নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘আগে যখন নায়িকারা কাজ করেছেন, তারা একটি ওকে শটের জন্য যতবার প্রয়োজন ততবার শট দিত। আর এখন নায়িকারা দু-একটি ছবি রিলিজ অথবা শুটিং শুরু হলেই নিজেকে বড় নায়িকা ভাবতে থাকে। কেন তার শট ওকে হয়নি, যেন দোষটা আমারই- এমন ভাব করে। সঠিক জিনিসটা তাদের কাছ থেকে আদায় করতে কষ্ট হয়। আবার এমন অনেক নায়িকা আছে ছবিতে ঢুকেই কী কাজে যেন ব্যস্ত হয়ে যায়।

শুটিং চলাকালে হঠাৎ সেট থেকে হাওয়া হয়ে যায়। আবার কয়েক ঘণ্টা পরে এসে বলে অন্য রুমে ছিলাম, মেকআপ ঠিক করছিলাম। অথচ, কিছুক্ষণ আগেও সবাই দেখেছে তার গাড়ি বাইরে গিয়েছিল। আসলে অভিনয়ের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই। বিষয়টি এমন যেন সে এসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই শট হয়ে যায়! অথচ এখনো নায়িকা চম্পার মতো নায়িকাও শট দেওয়ার পর সবার কাছে জানতে চায় শট কেমন হলো, কেউ ভালো না বললেই আবার শট। আসলে অল্প কয়েকজনই অভিনয়শিল্পী হওয়ার জন্য আসে, আর অনেকেই আসে টাকা কামাতে।’

প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দি বলেন, ‘শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, অঞ্জনারা ছিল তারকা। কারণ তাদের ছবি দর্শক দেখত। এখনো কয়েকজন আছে যার নাম শুনে দর্শক হলে আসে। আর অনেক ছবি করার পরও যাদের নাম মানুষ জানে না অথবা জেনেও আসে না, তাদের অভিনয়ের কোনো ভিত্তি নাই। কাজের প্রতি আগ্রহ নেই, আগ্রহ আছে নতুন ছবির প্রতি। সবার মাঝেই প্রতিযোগিতা আছে কে কয়টা ছবিতে কাজ করল। কেমন করল, সেটায় তাদের লক্ষ নেই। তাদের দেখে মনে হয় তারা স্টার হয়েই অভিনয় করতে এসেছে।’

তিনবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী পপি বলেন, ‘রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়ার জন্য চলচ্চিত্রে কাজ করলে কেউ টিকতে পারবে না। অভিনয়কে ভালোবেসে কাজ করতে হবে। বেশি ছবি না করে আমার মনে হয়, ভালো ছবির সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমি চেষ্টা করি বেছে কাজ করতে, কারণ দর্শকদের আস্থা আমি ভাঙতে চাই না। আমিও কিন্তু সাধারণ ছবি দিয়েই সাধারণ মানুষের মন জয় করেছি। এটা যদি সফলতা হয় তাহলে বলব, আমার একান্ত ইচ্ছা আর কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং চেষ্টা সব কিছু মিলিয়েই এই সাফল্য এসেছে। আমার মনে হয়, কাজের প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ব নিয়ে কেউ কাজ করলে সে কখনোই হারিয়ে যাবে না।’

এ বিষয়ে প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নায়িকা হওয়ার আগেই আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের নারীরা কোটিপতি হতে চান। এ কারণে নায়িকা হলেও সে আর টিকতে পারে না। কেননা, নায়িকাকে কোটিপতি হওয়ার টেনশনে থাকতে দেখলে তাকে আর পরিচালক ছবিতে নিতে চায় না। কয়েকটি আলোচিত-সমালোচিত ছবি করার পরই তার পতন শুরু হয়।’

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট শুধু নয় সাধারণ দর্শকেরও প্রশ্ন নবাগত নায়িকারা আসলে কী চায়? অর্থ, তারকাখ্যাতি না একজন শিল্পীর জীবন? এটা তো সকলেই জানেন, শিল্পীর জীবনকে বেছে নিলে অর্থ ও খ্যাতির পিছনে ছুটতে হয় না, ঐ দুটো এমনিতেই ধরা দেয়, যদি ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।এনটিভি



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই