মেইন ম্যেনু

নাক ভাঙ্গার প্রাথমিক চিকিৎসা

নাক ভাঙ্গাকে নেজাল ফ্র্যাকচার বা নোজ ফ্র্যাকচার ও বলা হয়। আপনার নাকের অস্থি বা তরুণাস্থি ভেঙ্গে গেলে বা চিড় খেলে নেজাল ফ্র্যাকচার বলা হয়। নাকের দুটি ছিদ্রকে পৃথক করে যে পর্দা সেই পর্দা বা সেপ্টাম অথবা নাকের ব্রিজ ভেঙ্গে গেলে এমন হয়। খেলাধুলার সময় নাকে আঘাত পেলে, পড়ে গেলে, যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটলে ও নাকে ঘুষি দিলে নাক ভাঙ্গার সমস্যাটি হতে পারে। যে লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যায় যে নাক

ভেঙ্গেছে তা হল :
· নাকের ভেতরে ও চারপাশে ব্যথা অনুভূত হলে
· নাক বাঁকা হয়ে গেলে
· নাক ও নাকের চারপাশ ফুলে গেলে
· নাক দিয়ে রক্ত পড়লে
· নাকের ছিদ্রগুলো ব্লক হয়ে গেলে
· চোখ ও নাকের চারপাশ বিবর্ণ হয়ে গেলে
· নাক নাড়াতে গেলে কর্কশ শব্দ হওয়া বা ঘষা লাগা
কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন :
· যদি নাকের রক্ত পড়া বন্ধ না হয়
· যদি সেপ্টাম স্থানচ্যুত হয়
· যদি অনেক বেশি ফোলা থাকে
· শ্বাস নিতে যদি কষ্ট হয়
চিকিৎসক আপনার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বলতে পারবেন আসলেই নাক ভেঙ্গেছে কিনা। যদি আপনার নাকের আঘাতটি অনেক বেশি মারাত্মক হয় তাহলে ডাক্তার আপনাকে এক্সরে ও সিটি স্ক্যান করতে দিবেন।

চিকিৎসা :
আপনার লক্ষণের উপর নির্ভর করে আপনি বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারবেন নাকি আপনাকে হাসপাতালে যেতে হবে। যদি জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন না হয় তাহলে ঘরেই আপনি কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে এর নিরাময় করতে পারেন।
§ নাক দিয়ে রক্ত পড়লে একটি চেয়ারে বসে সামনের দিকে ঝুঁকুন এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। এতে করে গলা দিয়ে রক্ত ঢুকবেনা।
§ যদি রক্ত না পড়ে তাহলে মাথাটা উঁচু করে রাখুন যাতে টন টন করা ব্যথা না হয়।
§ ফোলা কমানোর জন্য ঠান্ডা চাপ দিতে হবে। এর জন্য একটি পরিষ্কার কাপড়ে বরফের টুকরা নিয়ে নাকের উপর চেপে ধরুন এবং ১৫-২০ মিনিট রাখুন। দিনে ৩-৪বার এটির পুনরাবৃত্তি করুন।
§ ব্যথা নাশক ঔষধ যেমন- ইবোপ্রুফেন সেবন করতে পারেন
চিকিৎসক যেভাবে নাকের চিকিৎসা করবেন :
§ নাকে গজ দিয়ে পেঁচিয়ে দিবেন বা একটি প্রতিবন্ধক লাগাবেন
§ ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক দিবেন
§ সার্জারির প্রয়োজন হলে চিকিৎসক লোকাল এনেস্থেসিয়া দিয়ে নাক অবশ করে নিবেন এবং ক্লোজড রিডাকশন সার্জারি করবেন
§ নাকের পুননির্মাণের জন্য রাইনোপ্লাস্টি করতে হতে পারে
§ সেপ্টামের মেরামতের জন্য সেপ্টোরাইনোপ্লাস্টি করা হয়
ক্লোজড রিডাকশন, রাইনোপ্লাস্টি বা সেপ্টোরাইনোপ্লাস্টি করার প্রয়োজন হলেও ৩-১০দিনের আগে করা হয় না। ফোলা কমার পরেই ডাক্তার সার্জারি করবেন।






মন্তব্য চালু নেই