মেইন ম্যেনু

নানা চ্যালেঞ্জের মুখে বিদেশে নারী শ্রমিক প্রেরণ

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কোনোভাবেই যে সম্ভব নয় এ কথা আমরা সবাই বিশ্বাস করি । তাই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতীয়ভাবে নারী-পুরুষের যে সমতার কথা, কর্মক্ষেত্রেও সেই সমতা বিধানের কোনো বিকল্প নেই।

দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সময়ে নারীর অবস্থানগত উন্নতির জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সূচকে এর পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এরপরও নারীরা এখনো পেছনে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য প্রকট।

বাংলাদেশ লেবার ফোর্স সার্ভে ২০১০ এর তথ্য মতে, দেশে মোট ৫.৪১ কোটি শ্রমিক বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন; এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ১.৬২ কোটি। এছাড়া সরকারিভাবে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান ২০ শতাংশ। নারীরা যে গৃহস্থালি কর্মকাণ্ড করেন তার অর্থমূল্য আনুমানিক আড়াই লাখ কোটি টাকা। সে হিসাবে জিডিপিতে নারীর অবদান দাঁড়ায় ৪৮ শতাংশ। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নারীদের গুরুত্ব যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়।

তবে বাংলাদেশের নারী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রটি খুবই সংকীর্ণ। বলতে গেলে গার্মেন্টস ও আরো দু’একটি ক্ষেত্রেই নারীরা কাজের সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু বাকী এই বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে বেকার রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। তাই অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নারীদের বিদেশে চাকরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে ১৬০ দেশে প্রায় ৯০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শ্রমিকও রয়েছেন। মন্ত্রনালয়ের তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৫ বছরে ২৪ লাখ ৫১,০৯৩ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৪২১৩ জন নারী কর্মী। সম্প্রতি বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের হারে বেশ ভাটা পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও পুরুষদের তুলনায় নারীদের বিদেশ গমনের হার বেড়েছে। জনশক্তি ব্যুরোর মতে, ২০১৩ সালে যেখানে ৫৬,৪০০ নারী কাজের উদ্দেশে বিদেশে গেছেন, সেখানে ২০১৪ সালে গেছেন ৭৬,০০৭ জন। গত ৬ বছরে নারীদের বিদেশে গমনের হার প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে।সম্প্রতি সৌদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে নারীকর্মীদের চাকুরির বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় এ সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এমনটিই আশা করা হচ্ছে। এটা সত্যিই আমাদের জন্য সুখবর। কিন্তু বাস্তবে কী তাদের চাহিদা মোতাবেক নারী শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে? বিষযটি বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা, অতীতের অভিজ্ঞতা খুব শুভকর নয়।

কেননা, সাম্প্রতিককালে বিদেশে সংঘটিত কিছু ঘটনা নারীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে আগের আগ্রহে ভাটা পড়েছে । সম্প্রতি নিবন্ধন কার্যক্রম থেকেই এই চিত্র উঠে এসেছে। এপ্রিল মাসে ঘটা করে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর জন্য সারা দেশে নিবন্ধন হলেও তাতে তেমন সাড়া পড়েনি। মাত্র দুই হাজার ৯৭৬ জন নিবন্ধন করেন। কিন্তু রোজার আগেই সৌদি আরবে ২০ হাজার নারী কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ কারণেই এবার গেল ২৪ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশে নারী গৃহকর্মী বাছাই করা হয়। এতেও তেমন সাড়া নেই নারীদের।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার বলা হয়, যাঁরা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাবেন তাঁদের নিম্নতম বেতন হবে ১৬ হাজার টাকা। ওভারটাইমসহ সেটি ২০ হাজার টাকা হবে। চাকরির মেয়াদ হবে দুই বছর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ থাকবে। কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যাবে। আর এই কর্মীদের পাঠানোর আগে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, সরকারই সেই খরচ বহন করবে। ফলে এতকিছুর পরও এখন কেন বিদেশে যেতে নারীরা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না, বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরার মেয়ে শাহিনা আকতার। আরো অনেকের মত অনে স্বপ্ন নিয়ে এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যান। তিনি বলেন “মসজিদে কাজ করতে পারবো জেনে ভাল লাগলো ভাল বেতন, ভাল কাজ। শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম” তিনি দুবাই পৌঁছালেন,- আর দেখলেন কল্পনার সাথে বাস্তবের মিল নেই। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয় একজনের বাসায়। তিনি বলেন “শরীরে বিভিন্ন জায়গায় গ্লাস ছুড়ে মারতো। কাজে ভুল হলে মারধর করতো, শরীরে বিভিন্ন জায়গার এখনো ক্ষত চিহ্ন রয়েছে”।
একদিন মারধরের এক পর্যায়ে শাহিনা হঠাত করেই বলে বসেন যদি তার গায়ে হাত তোলা হয় তাহলে তিনি রাস্তার টহলরত পুলিশকে জানিয়ে দেবেন। এরপর তার বাড়ির মালিক যে এজেন্সির মাধ্যমে তাকে কাজে নিয়েছিল তাদের ডেকে শাহিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। কিন্তু সাত মাসের কাজের কোন বেতন তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

বিদেশে গৃহকর্মী হিসেবে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা শিকার আসমা। তিনি বলেন “সাত দিনের মধ্যে পর পর দুই রাত দুই বাসায় তারা আমাকে ধর্ষন করার চেষ্টা করে। আমি বলি আমারে কাজ দেন নাইলে দেশে পাঠায়ে দেন” আসমাকে সেখানে দেহব্যবসার কাজে লাগাতে চেয়েছিল তার প্রেরণকারী। এক সপ্তাহ পর ওমান থেকে দেশে ফিরে আসেন আসমা। কিন্তু দেহব্যবসার করার অভিযোগে তার স্বামী এখন আর তার সাথে থাকতে চাচ্ছেন না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কাজের উদ্দেশ্যে যে হাজার হাজার নারী শ্রমিক পাড়ি জমায় তার একটা বড় অংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সরকারি হিসেবে গত ২৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিক গেছে সাড়ে তিন লাখের বেশি। যারা মূলত সেখানে কাজ করেন গৃহকর্মী হিসেবে।

নারী শ্রমিকদের বিদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা-জনিত সমস্যা ছাড়াও ভাষা, সংস্কৃতি সেদেশের নিয়মকানুন নিয়ে প্রায়ই ঝামেলায় পরতে হয়। সেসব অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা দেশে ফিরে আসেন আর গণমাধ্যমে এনিয়ে নানা সময়ে ওঠে আসে প্রতিবেদন।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংস্থা রামরু’র ড. তাসনিম সিদ্দিকি বলেন, নারী শ্রমিকদের গৃহকর্মী হিসেবে বিভিন্ন দেশের চাহিদা রয়েছে। তবে সেখানে নিরাপত্তা সহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখার জন্য প্রত্যেকটি জায়গায় সরকারের শেল্টার হোম বা আশ্রয় কেন্দ্র থাকা উচিত। যাতে করে সেখানে কেও সমস্যায় পরলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।
সৌদি আরবে নারী শ্রমিকরা গৃহকর্মী হিসেবে বেশি যান । রিক্রুটিং এজেন্সি অনেকটা দালালের মতই কাজ করেন বলে তিনি জানান। সেক্ষেত্রে সাহায্য পাওয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়।

স্বল্প সময়ের প্রশিক্ষণ- নির্দিষ্ট দেশের ভাষা, কাজ আর পরিবেশ সম্পর্কে ভাসা ভাসা ধারনা নিয়ে প্রতিবছর কয়েক হাজার নারী শ্রমিক পাড়ি জমাচ্ছেন বিশ্বের নানা দেশে। যেখানে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে সমস্যায় পরলে কার কাছ থেকে তারা প্রতিকার চাইবেন সেটিও অনেকের কাছেই অস্পষ্ট।

যতদূর জানা যায়, বাংলাদেশি পুরুষ শ্রমিকরা ১৯৭৪ সাল থেকে সরকারিভাবে বিদেশে গেলেও নারী শ্রমিকরা মূলত ১৯৯০ সালের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশে কাজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত পাঁচ লাখের কম নারী বিদেশে শ্রমিক হিসেবে যেতে পেরেছেন। তাদের বেশিরভাগ ওমান, লেবানন, সিঙ্গাপুর, জর্ডান, সৌদি আরব, মরিশাস ও হংকংএ কাজ করছেন। তবে বর্তমানে লেবাননে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক রয়েছেন।
তবে নারীদের চাকুরি নিয়ে বিদেশে গমণের ক্ষেত্রে অনেক বাঁধাবিঘ্ন উপেক্ষা করেই যেতে হয়। সেখানে গিয়েও নানা ঝামেলায় পড়তে হয়, আবার অনেককে খালি হাতে ফিরেও আসতে হয়। ফিরে এসেও পরিবার ও সমাজ থেকে নানা কটু কথা শুনতে হয় তাদেরকে। ফলে সমিলেই চাকুরি নিয়ে নারীর বিদেশ গমণ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

এক. নারীদের চাকুরি নিয়ে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে স্বামী বা পরিবারের অন্যদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তার বিদেশে যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে।

দুই. যে কোনো পেশায় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের বিপদগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ভাগ্যান্নয়নে বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চাইলে পাচার কিংবা যৌন নির্যাতনের মতো কিছু বিশেষ পরিস্থিতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে নারীদেরই।

তিন. বিদেশগামী নারীরা অনেক বেশি অরক্ষিত ও অসহায় অবস্থায় থাকেন। অপরিকল্পিত উপায়ে ও নিয়ম না মেনে বিদেশে গেলে প্রতিটি ধাপেই ঝুঁকি রয়ে যায়। সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে নারীরা সঠিক পেশা নির্ধারণ এবং নিরাপদ বাসস্থান বা অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন না। তারা প্রায়ই পাচারকারীর হাতে পড়েন। অনেক সময় যৌনকর্মীর মতো অনিচ্ছুক ও মাদক কেনাবেচার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কাজ করতে বাধ্য হন। অনেকে দালালদের দ্বারা আর্থিক প্রতারণার শিকার হন। কর্মক্ষেত্রে অত্যধিক শ্রমের বিনিময়েও প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা জোটে না।

চার. নারীর কষ্টার্জিত রেমিটেন্সও তার ইচ্ছায় ব্যয় হয় না। এমনকি পরিবার বা সমাজ তার এই অবদানের মূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করে অনেক সময়। ফলে নারীরা বিদেশে গিয়ে চাকুরি করতেও সেভাবে আগ্রহী হচ্ছে না।

পাঁচ. নারীদের বিদেশের কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার যে ক’টি কারণ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও জীবনদক্ষতার উপর প্রশিক্ষণ না থাকা। অন্যদিকে, এজেন্সি, লেবার উইংস ও দূতাবাসসমূহের চরম গাফিলতির কারণেও অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীদের মতে, জরুরি সময়ে এজেন্সি ও দূতাবাসসমূহ প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ছয়. শুধুমাত্র বিদেশে নয়, দেশে ফিরেও নারী শ্রমিককে সমাজে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে যারা প্রতারিত হয়ে ফিরে আসেন তাদের নিয়ে সমাজের কেউ কেউ উপহাস বা হাস্যরসের জন্ম দেয়। আবার কারও অর্থিক উন্নতি দেখলে বলা হয়, অবৈধ উপায়ে টাকা আয় করেছে। যারা অসুস্থ হয়ে ফেরত আসেন তাদের সম্পর্কেও সমাজে নেতিবাচক ধারণা থাকে। উল্লিখিত অপবাদ একজন নারী শ্রমিকের জন্য পীড়াদায়ক ও মানসিক নির্যাতন। ফলে এ ধরনের ঘটনা তার স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে এসব কারণে বিদেশে যেতে নারীদের অনাগ্রহী করে তুলছে।

বিদেশে নারীরা যে নানা বৈরি পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন তা আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনেরও তা উঠেছে। সম্প্রতি এইচআরডব্লিউর এক প্রতিবেদনের বলা হয়, আরব আমিরাতে নারী শ্রমিকের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একটি ঘটনায় নিয়োগদাতা প্রতিবাদী নারী শ্রমিককে বলেন, ‘তোমাকে আমরা কিনেছি, অভিযোগ করবে না’। এছাড়া দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা বেশ কিছু নারী শ্রমিকের উপর ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) একটি স্টাডি রিপোর্ট করেন। তাতে দেখা যায়, প্রতি ৩ জনে ২ জন অভিবাসী নারী শ্রমিক তাদের নিয়োগকর্তা দ্বারা কোনো না কোনো প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

ফলে বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের বাগড়ম্বর বক্তব্য দেয়ার আগে এসব বিষয়ে ভাববার সময় এসেছে। যারা পরিবার ও দেশের জন্য এত ত্যাগ শিকার করে রেমিটেন্স পাঠান তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আমরা চাই আমাদের কর্মক্ষম নারী শ্রমিকেরা নিরাপদ উপায়ে ও ন্যায্য খরচে বিদেশে যাবেন। সেখানে ভালো কর্মপরিবেশ এবং বাসস্থানে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবেন। চাকরি শেষে তারা বীরের বেশে দেশে ফিরে এসে সমাজের মূল স্রোতে মিশে যাবেন। এজন্য, সঠিক নিয়মে নারীদের বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রনয়ন করতে হবে।

সেই সাথে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ভাষা জানা ও জীবন-দক্ষতার উপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সব কর্মীর জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে এজেন্সি, লেবার উইংস ও দূতাবাসগুলোর আরও আন্তরিক হতে হবে। নির্যাতনের ঘটনা যে সব দেশে বেশি, সে সব দেশের দূতাবাসে নারী কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত শেল্টার হোমের ব্যবস্থা থাকা দরকার। প্রয়োজনবোধে সে দেশের সরকার, শ্রম মন্ত্রণালয় ও নিয়োগকর্তাদের নালিশ করে সমস্যার সুরাহা করতে হবে। এছাড়া নতুন করে বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে চাইলে বিরাজমান অনিয়মগুলো আমলে নিয়ে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে যাচাই বাছাই করে চুক্তিতে সই করা উচিত।

সবশেষে বলবো, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিদেশে নারীর কর্মসংস্থান একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ক্ষেত্রে নারীবান্ধব নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করা হলে বিদেশেও নারীরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। এজন্য আমাদের সঠিক কর্মপন্থা ও করণীয় নির্ধারণ এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক। তবেই নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

লেখক: গবেষক ও কলামলেখক । ই-মেইল:[email protected]






মন্তব্য চালু নেই