মেইন ম্যেনু

নামাজ-কালাম নিষিদ্ধ চায় জার্মানির ডানপন্থি দল

জার্মানিতে মুসলিমদের নামাজ কালাম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে মেনোফেস্টো প্রকাশ করেছে একটি উগ্র-ডানপন্থী দল। প্রথমে অভিবাসন বিরোধিতা দিয়ে প্রচারণা শুরু করা দলটি এখন পুরোপুরি ‘অভিবাসন-বিরোধী’ বা আরো স্পষ্টভাবে বলতে গেলে ‘ইসলাম-বিরোধী’ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি আঞ্চলিক নির্বাচনে ভালো ফল করার পর তারা এবার সরাসরি ইসলাম বিরোধী প্রচারণায় নামল।

অলটারনেটিভ ফার ডয়েচল্যান্ড’ (এএফডি) নামের এই দলটি আজান, বোরকা, এবং মসজিদের মিনার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এক নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো অনুমোদন করেছে। শনিবার জার্মানির স্টুর্টগার্টে শুরু হওয়া এক সম্মেলনে ইসলাম বিরোধী ওই মেনোসেফস্টো বা নীতি তুলে ধরেছে এএফডি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জার্মানিতে ইসলাম ধর্মের কোন স্থান নেই’। এতে মুসলমানদের আজান, পুরো মুখ ঢেকে নিকাব পরিধান ও মসজিদের মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সম্মেলনে একজন প্রতিনিধি বক্তৃতা দেবার সময় বলেন, ‘জার্মানির জন্য ইসলাম একটি বিদেশী ধর্ম, তাই এখানে খ্রিষ্টানদের মতো সমান অধিকার মুসলিমদের থাকা উচিত নয়।’ এসময় অন্য প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। তবে এই সম্মেলন শুরুর আগে মিলনায়তনের বাইরে সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ কয়েকশ বামপন্থী বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করা দলটি আঞ্চলিক নির্বাচনেও ভালো করেছে। অর্ধেকেরও বেশি আঞ্চলিক পার্লামেন্টে আসন পেয়েছে এএফডি। অনেকের ধারণা, আগামি বছর প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্লামেন্টে আসন পেতে পারে দলটি। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গোলা মের্কেলের অভিবাসন নীতির বিরোধিতার কারণেই রাতারাতি সফলতা পেয়েছে এএফডি।

জার্মানিতে প্রায় ৫০ লক্ষ মুসলিম বাস। এরা দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ। এদের বেশিরভাগই তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে এদেশে বাস করছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এএফডি’র এই ইসলাম বিরোধী অবস্থান বিপজ্জনক এবং এটি জার্মানিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত এক বছরে যুদ্ধবিক্ষুব্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ১০ লাখেরও বেশি অভিবাসী (যাদের বেশিরভাগই মুসলিম) জার্মানিতে প্রবেশ করেছে। অ্যাঙ্গোলার এই অভিবাসন বান্ধব নীতি এএফডির সমর্থন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে, যা এখন তাদের সরাসরি মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় নামতে উৎসাহ যুগিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই