মেইন ম্যেনু

নামাজ মুসলিমদের পাপ থেকে বিরত রাখে

প্রতিটি মুমিনের জন্য নামাজ আদায় বাধ্যতামূলক। কারণ নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ও ফরজ ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে অমনোযোগী না করে। যারা এ কারণে অমনোযোগী হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সূরা আল মুনাফিকুন : ৯)।

উপরোক্ত আয়াতে ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে বোঝানো হয়েছে। অতএব, যে লোক অর্থ উপার্জন অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য, খেত-খামার এবং পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণের ব্যস্ততার কারণে যথাসময়ে নামাজ আদায় করে না, সে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজ হাশরে প্রথমেই বান্দার আমলসমূহের ভেতর যে বিষয়ের হিসাব নেয়া হবে তা হচ্ছে নামাজ। নামাজ সঠিকভাবে আদায় করে থাকলে পরিত্রাণ পাবে, অন্যথায় ব্যর্থতা নৈরাশ্য ও ক্ষতি অবধারিত।’ (তাবারানি)

দোজখিদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘বেহেশতিগণ তাদের জিজ্ঞাসা করবে, কী কারণে তোমরা জাহান্নামে গেলে? উত্তরে তারা বলবে, আমরা নামাজ আদায়কারীদের দলে ছিলাম না, আমরা ক্ষুধার্থদের অন্ন দান করতাম না। ফলে শাফায়াতকারীদের শাফায়াত তাদের কোনো কাজেই লাগবে না।’(সূরা মুদ্দাসিসর-৪২-৪৮)।

কেউ নিজেকে মুসলমান হিসেবে দাবি করলে তাকে অবশ্যই নামাজ আদায় করতে হবে। রসুল (সা.)-এর হাদিসে সে তাগিদ দেয়া হয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমাদের ও অমুসলিমদের মাঝে (পার্থক্য সূচিত করে) নামাজের অঙ্গীকার, যে নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।’ (আহমদ, আবু দাউদ নাসায়ী ও তিরমিজি)।

আরেক হাদিসে তিনি বলেন, ‘মুমিন ও কাফেরের মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে নামাজ ত্যাগ করা।’ (আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিজি)।

বোখারিতে বর্ণিত আছে, রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার আসরের নামাজ ছুটে গেছে, তার আমল নষ্ট হয়ে গেল।’ সূনান কিতাবসমূহে রয়েছে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দিল, সে আল্লাহর জিম্মাদারি থেকে বের হয়ে পড়ল।’

নামাজের মাধ্যমে মুমিনরা প্রতিদিন অন্তত ৫ বার আল্লাহকে স্মরণ করেন। তাদের হৃদয়ে আল্লাহভীতি জাগ্রত হয়। সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকতে এই আল্লাহভীতি মানুষকে সহায়তা করে।






মন্তব্য চালু নেই