মেইন ম্যেনু

নারিকেল ফুল থেকে ডায়াবেটিস চিনি!

নারিকেলের ফুল থেকে ডায়াবেটিস চিনি! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে, নারিকেলের ফুলের রস চিনির শরবততুল্য। যা ডায়াবেটিসে আক্রান্তরাও পান করতে পারেন নির্দ্বিধায়। এমনকী এ রস থেকে বানানো চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টিও খেতে পারেন।

নারিকেলের ফুলের মিষ্টি রসকে বলা হয় ‘নীরা’। হালকা ক্রিম রঙের মিষ্টি ‘নীরা’য় নানা ধরনের খনিজ পদার্থ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন রয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিজ্ঞানী অসিত চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘এই রস পান করলে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের চিন্তার কারণ নেই। কারণ, এতে রক্তে মেশে এমন শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কম।’

এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে উত্তর-পূর্ব ভারতে সরকারি উদ্যোগে নারিকেল গাছের ফুল থেকে রস বের করার কাজ শুরু হয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’ (আইসিএআর)-এর অন্তর্গত কেরলের ‘সেন্ট্রাল প্ল্যান্টেশন ক্রপস্ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিপিসিআরআই)-এর বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই নারিকেলের উপর গবেষণা চালিয়ে আসছেন। তাদেরই তত্ত্বাবধানে হুগলির বলাগড়ে শুরু হয়েছে এই পাইলট প্রজেক্ট ।

প্রকল্পে যুক্ত বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপক জানান, হিসেব করে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের এক শতাংশ গাছ থেকে বছরে ১,০২৪ লক্ষ লিটার রস পাওয়া সম্ভব। যার বাজারদর প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা (রুপি)। এক জন চাষি এক হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছ লাগালে, সে সব গাছের ফুল থেকে সারা বছরে প্রায় ২১ লক্ষ টাকার (রুপি) রস বিক্রি করতে পারবেন। তিনি জানান, বিশ্বের বাজারে নারিকেলের ফুলের এই রসের তৈরি চিনির বাজারও প্রতিদিন বাড়ছে। বিকল্প চাষে অর্থকরী ফসল হিসেবে নীরা আগামী দিনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

এখানকার বিশিষ্ট মিষ্টিপ্রস্তুতকারক ‘ফেলু মোদক’-এর অন্যতম কর্ণধার অমিতাভ দে জানান, তারা ‘নীরা’কে ‘হেল্থ ড্রিঙ্ক’ হিসেবে বাজারে আনতে চান। আবার ওই রস থেকে তৈরি চিনি দিয়ে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য মিষ্টি বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা






মন্তব্য চালু নেই