মেইন ম্যেনু

নারীদের আর্থসামাজিক জীবনের বেইসলাইন সার্ভে ‘ঢাবি’ ছাত্রীরা

দিন্জাপুর বালুবাড়ীর বে-সরকারী সংস্থা পল্লীশ্রীর সহযোগতিায় এবং ডনার সংস্থা অক্সফাম এর অর্থায়নে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তানদীর অববাহিকায় বসবাসরত দরিদ্র-হতদরিদ্র নারীদের আর্থসামাজিক জীবনমানের বেইস লাইন সার্ভে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ম্যানেজম্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যায়নরত ছাত্রীরা।

আজ শুক্রবার ৪ ডিসেম্বর উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর খড়িবাড়ী ও দক্ষিনখড়িবাড়ী গ্রামে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পল্লী শ্রীর রি-কল প্রকল্পের ৬টি সিবিওর প্রায় ৫ শতাধিক নারী সদস্য’র জীবন-জীবিকা, জীবনমান, আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ,লাইফ স্টাইল, তাদের চলাফেরা, টেকনোলজি, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, উপার্জনের ব্যবস্থাসহ নানাদিক আলোচন পর্যালোচনা করে তা লিপিবদ্ধ করছেন সার্ভে টিম।

উত্তর খড়িবাড়ী গ্রামের সবদের আলীর বাড়ীতে বসে শক্তি জনসংগঠনের সিবিও সদস্য আসমা বেগমের সাথে কথা বলছিলেন সার্ভে টিমে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিনা বিন্তে ইব্রাহিম।

তাদের এই আলাপচারিতার ফাঁকে কথা হলে এ প্রতিবেদককে ফাহমিনা বিন্তে ইব্রাহিম জানান, আমরা একই ক্লাসে অধ্যায়নরত ২৮ জন ছাত্রী এ সার্ভে অংশগ্রহন করে এ অঞ্চলের নারীদের জীবনমানের উপর সার্ভে করছি।

তিনি বলেন, সাথে আছেন আমাদের শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো: শাখাওয়াত হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক মো: আশরাফুল ইসলাম, প্রভাষক মো: সেলিম। একই গ্রামের খায়রুল ইসলামের স্ত্রী রাহানা ইয়াছমিন এর জীবন মানের উপর জরিপ করছিলেন সার্ভের টিম সদস্য জিহান ইব্রাহিম।

এ সময় তিনি জানান, আমরা ১-৪ ডিসেম্বর এই চার দিনে তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে নি:স্ব রিক্ত হস্তে বসবাসকারী নারীরা কিভারে জীবনের এতগুলো দিন অতিবাহিত করছে তাদের এই সংসার জীবন, সেগুলিই ফুটে উঠেছে আমাদের জরিপ পেপারে। আমাদের পড়াশুনার বিষয়ের হাতে কলমে এই শিক্ষা নিতে এসেছি।

তবে এসে দেখেছি এসব দরিদ্র ও হতদিরদ্র নারীদের জীবন জীবিকার মান কতটা নিগামী। আমরা ঢাকা শহরে থাকি তাই হয়ত বুঝতে পারি না জীবন সংগ্রামে নারীদের জীবন কাহীনি। দুর্যোগ মোকাবেলায় কতটা আত্ববিশ্বাসী তারা। কতটা প্রকৃতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে বেঁচে আছে এসব নারীরা।

একই ভাবে আমির আলীর শয়নঘরে বসে কথা বলছিলেন সার্ভে টিমে থাকা রুপা সাহা গৃহবধুঁ মিনা বেগমের সাথে। এ সময় তাদের ফটো নিতে গিয়ে কথা হলে রুপা সাহা জানায়,শুনছিলাম এসব নারীদের সাথে ঘটে যাওয়া বাস্তব কিছু ঘটনা।

সাংবাদিক দেখে দু’নয়নের অশ্রু ছেড়ে দিয়ে কথা বলছিল মিনা বেগম। তার জীবন কাহীনি বলছিল এভাবেই- এই তিস্তানদীর বন্যায় মেলা (অনেক) দিন আগে বাড়ী ভিটা (ভিটে) হারিয়ে সরকারের (পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তা নদীর ডাঁনতীরে) গাইড বাঁধে বসবাস করে আসছি দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর ধরে। একই ভাবে জীবন চলছে।

জীবন মানে কি, আজো বুঝতে পারলাম না। জীবন সংসার চলছে তো চলছেই। যেন একই ভাবে, একই নিয়মে। তিস্তার নদীর মতোই। তিনি বলেন জীবনে দু:খ্য বলে কিছু নেই। যখন যেভাবে জীবন চলে সে ভাবেই চালিয়ে যাই। সার্ভে টিমের থাকা রুপা সাহা অবাক তাকিয়ে রয় এসব দরিদ্র নারীর কাহীনি শুনে।

সার্ভে চলাকালীন সময়ে কথা হয় সার্ভে টিম লিডার সহকারী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসাইনের সাথে তিনি বলেন, আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের তাদের বিষয় ভিক্তিক হাত-কলমে শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যেই আমরা অক্সফামের আয়োজনে এবং স্থানীয় সংস্থা পল্লীশ্রীর সহযোগীতায এ বেইস লাইন সার্ভে করছি।

সার্ভের বিষয় ছাড়াও আমরা অতিরিক্ত একটি কাজ সার্ভে করছি। তা হলো তিস্তা ব্যারাজের উজানে সাটেলাইট ম্যাপটির কি পরিবর্তন হয়েছে। আজ থেকে ২০/২৫ বছর পূর্বে এসব জায়গায় কি ছিল? পরিবেশের কি পরিবর্তন হয়েছে এ দীর্ঘ সময়ে?

এসব দেখার জন্য আমরা একটা এ্যাডিশনাল সার্ভে করতে চাই। যা আমরা ঢাকায় ফিরে পূর্বের ম্যাপ বের করে দেখতে পাবো কি কি পরিবর্তন এসেছে তিস্তা নদীর অববাহিকায় কিংবা এর আশে পাশে।

পল্লীশ্রীর প্রতীক প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মকিম চৌধুরী এ সময় বলেন,এ বেইস লাইন সার্ভে টিমের সাথেই আছি তাদের সার্বিক সহযোগতিায়। তবে তিনি বলেন,এ সার্ভের মাধ্যমেই এই জনপদের নারীদের জীবন জীবিকায়নে একটি পূর্ন্যরুপ ফুঁঠে উঠবে সার্ভের কাগজ কলমে।






মন্তব্য চালু নেই