মেইন ম্যেনু

নারীর গড় আয়ু বেশি যে কারণে

নারীরা সাধারণত পুরুষের তুলনায় বেশিদিন বাঁচে। তবে এ অবস্থা সব সময় একরকম ছিল না বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে এলএ টাইমস।
১৯ শতকের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করা নারী-পুরুষদের মাঝে নারীর তুলনায় পুরুষের দ্রুত মৃত্যুর হার দেখা যায়। তার আগে এ পরিস্থিতি ছিল না বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
নারীদের বেশিদিন বাঁচার বিষয়টি অনেকেই প্রাকৃতিক বিষয় বলে মনে করলেও তা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করছেন অনেক গবেষক।
এ বিষয়ে একটি গবেষণা করেছেন ম্যাডিসনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের গবেষক হিরাম বেলট্র্যান-স্যানচেজ। তিনি একজন ডেমোগ্রাফার ও গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক। জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি এ সিদ্ধান্তে এসেছেন।
হিরাম ও তার সহকর্মীরা ২০০ বছরেরও আগে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন। ১৮০০ থেকে ১৯৩৫ সালের হিউম্যান মরটালিটি ডেটাবেইজ তাদের গবেষণার তথ্যের উৎস। এরপর এ তথ্য তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মৃত্যুহারের সঙ্গে তুলনা করেন।
নারীগবেষকরা মৃত্যুর পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ইনফুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া। এ ছাড়া রয়েছে ধূমপান সম্পর্কিত মৃত্যু, যাতে তারা ফুসফুস ক্যান্সার ও অনুরূপ রোগকে রেখেছেন।
গবেষণায় তারা জানতে পারেন, ১৯ শতকে জন্মগ্রহণকারী পুরুষ ও নারী উভয়েরই আয়ু ২০ শতকের মানুষের তুলনায় কম ছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল পরিষ্কার পানি ও খাবারের অভাব। এ ছাড়া তাদের সংক্রমণজনিত রোগের প্রতিষেধকও তেমন ছিল না। সে সময়েই পুরুষ ও নারীর জীবনকাল প্রায় সমান ছিল।
নারীহিরাম জানান, এরপর পরিষ্কার পানি ও পুষ্টিকর খাবার সর্বত্র বিস্তার লাভ করায় ৪০ থেকে ৯০ বছর বয়সের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসে। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ০.২৯ শতাংশ হলেও পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ০.১৭ শতাংশ।
১৯০০ সল থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী মানুষের মাঝে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে মৃত্যু হওয়া পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় বেশি। আর এর পেছনে পুরুষের প্রচুর হৃদরোগ ও ধূমপানজনিত রোগে মৃত্যুই প্রধান কারণ।
বিংশ শতকের প্রথমাংশে নারীর তুলনায় পুরুষের মাঝে অধিক ধূমপানের প্রবণতা দেখা যায়। আর এতে বাড়তি মৃত্যু হয়ে পুরুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন গবেষকরা।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এ।






মন্তব্য চালু নেই