মেইন ম্যেনু

নারীর যৌন ইচ্ছা সম্পর্কে এই ৫ তথ্য জানেন কি?

কথায় বলে, মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না৷ ভারতীয় পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কারণেই যে এ কথার জন্ম তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু সত্যিই কি তাই? সত্যিই কি মুখ ফোটে না? নাকি মুখ ফুটতে চাইলেও তা ফুটতে দেওয়া হয় না! বা সে কথায় কান দেওয়া হয় না৷ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই জানা যাবে নারীদের যৌন ইচ্ছা সম্পর্কিত বেশ কিছু ভুল তথ্য পুরুষের মনে গেঁথে থাকে৷

কী সেগুলো?

১) নারীদের থেকে পুরুষরাই যৌনতা বেশি পছন্দ করে :
যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষদের ইচ্ছেপূরণের খাতিরে নারীদের যৌনতা অবদমিত করে রাখা থেকেই এ ধারণার জন্ম৷ হয়ত নারীদের যৌনতার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে কিংবা যৌনতার ক্ষেত্রে তাদের চেপে রাখার কারণেই এ কথার প্রচলন হয়েছে৷ যৌবনের গোড়া থেকেই তাই পুরুষরা যৌনতার দিকে ঝুঁকে থাকে বেশি৷ নারীরা যেন এ ব্যাপারে নিজেদের একটু আড়াল করেন৷ আসলে টেস্টোস্টেরন হরমোনের কারণে পুরুষের যৌনতার ইচ্ছে একটু বেশিই হয়৷ নারীরা আবেগপ্রবণ হওয়ায় যৌনতার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিক্রিয়া শারীরিক হয় না সবসময়৷ কিন্তু সমীক্ষা করে দেখা গেছে, যৌনতার ইচ্ছেয় কিন্তু সত্যিই নারীরা কম যান না৷ যৌনতার ক্ষেত্রে যতটা মনে করা হয় নারীরা তার থেকেও বেশি আগ্রহী বলেই প্রমাণ পেয়েছেন সমীক্ষকরা৷

২) নারীদের ভাবনায় যৌনতা কম :
যৌনতা তো সারাক্ষণ পুরুষদের মাথায় ঘোরে-এরকম একটা চলতি ভাবনা আছে৷ কিন্তু বিভিন্ন প্রশ্নের ভিত্তিতে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এ ধারণা সঠিক নয়৷ বরং পুরুষরা গড়পরতা যতবার যৌনতা নিয়ে চিন্তা করেন, নারীরা চিন্তা করেন তার থেকেও বেশিবার৷ সুতরাং এ ধারণা এখন থেকে বদলাতেই পারেন পুরুষরা৷

৩) নারীরা ‘হটকে’ পর্নোগ্রাফি পছন্দ করেন না :
পুরুষদের মতো নারীরাও যে পর্নোগ্রাফি পছন্দ করেন এ আর নতুন কোনো তথ্য নয়৷ কিন্তু অনেকেই মনে করেন, পুরুষরাই বোধহয় হটকে পর্নোগ্রাফি দেখেন৷ নারীদের এসব না-পছন্দ৷ কিন্তু এ ধারণা সত্যি নয়৷ বরং হোমোসেক্সুয়াল পর্ন, বা পশুদের সঙ্গে মানুষের পর্নোগ্রাফিও যে নারীদের পছন্দ তা বিভিন্ন পর্ন সাইটের সেকশনের ভিজিটর ডেটা থেকেই স্পষ্ট৷ দুনিয়ার বিখ্যাত পর্নসাইটের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে লেসবিয়ান পর্ন নারীরাই দেখেন বেশি।

৪) নারীরা মূলত মনোগ্যামি :
নারীরা সঙ্গমের ক্ষেত্রে এক পুরুষেই আস্থা রাখেন৷ সমাজের দীর্ঘলালিত এ এক ধারণা৷ এখানেও খানিকটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চাপিয়ে দেওয়া ধারণা কাজ করে৷ কিন্তু ব্যাপারটা সত্যি নয়৷ মার্কিনমুলুকের সেন্সাস ব্যুরো এক সমীক্ষায় জানিয়েছিল, বেশিরভাগ নারী বিবাহ প্রথা অস্বীকার করছেন ও বাচ্চার জন্ম দিতে নারাজ৷ যৌনতার ক্ষেত্রে এক মনোগ্যামি হওয়ার প্রশ্নই তাই নেই৷ দেশভেদে এ ধারণার রদবদল হতে পারে, তবে খুব বেশি পাল্টায় না৷ তবে হ্যাঁ, একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন সব নারী করতে চান না৷ এ নিয়ে তাঁরা যে মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহী এমনটাও নয়৷ তবে এ জিনিস তাঁরা যে একদম চান না, তা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে৷

৫) নারীরা যৌন ভাবনা নিয়ে অপরাধবোধে ভোগে :
পুরুষরা নিজেদের যৌন ভাবনা নিয়ে কোনো অপরাধবোধে ভোগে না, নারীরা ভোগে-এমন কথা শোনা যায়৷ কথাটি আংশিক সত্যি৷ সাম্প্রতিক সমীক্ষা জানাচ্ছে, পুরুষরাই নিজেদের যৌন ভাবনা নিয়ে অপরাধবোধে ভোগেন বেশি৷ নারীর ক্ষেত্রে তা হয় না৷ কেন না নারীরা নিজেদের যৌন ইচ্ছেকে খুব সহজে বশে আনতে পারেন৷ তবে যৌনতার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রকাশ কিন্তু অন্যভাবে৷ আর তাই নিজেদের ‘সেক্সি’ দেখানোর চেষ্টা করেন নারীরা৷

আসলে সমাজের চলতে থাকা নিয়মে অনেক কিছু ধারণার জন্ম হয়৷ কিন্তু মানুষের মন এক গহন সমুদ্র৷ প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে তা আবার আলাদা৷ তাই যৌনতার মতো এক জটিল জিনিসকে নিয়মের নিগড়ে বেঁধে না রাখাই ভাল৷ ভুল ধারণা ছেড়ে যৌনতাকে যত খোলখুলি গ্রহণ করা যায়, ততোই মঙ্গল৷ সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই