মেইন ম্যেনু

নারী সৈনিকের সুফল পাচ্ছে বিজিবি

কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিবিতে নারী সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিজিবিতে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে টহল, চেকপোস্টগুলোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিজিবির সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও নির্দেশনায় ২০১৫ সালে বিজিবি`র ৮৮তম ব্যাচে প্রথমবারের মতো নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়।

বিজিবি সদর দফতর আরো জানিয়েছে, সীমান্তের চেকপোস্ট, আইসিপি (ইন্টার চেকপোস্ট), জিপি সৈনিকদের সঙ্গে বিজিবি`র নারী সদস্যরা কাজ করছেন। এছাড়া বিজিবি মেডিকেলে নার্স, ডক্টরস অ্যাসিস্ট্যন্স হিসেবে এবং কমিউনিকেশন্স শাখায় তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সফলতার সঙ্গেই বিজিবি নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজিবির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার (এডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লতিফুল হায়দার বলেন, `হিলি সীমান্ত দিয়ে নারীরা মাদক বহন করেন। চোরাচালানের সব ধরণের কাজে নারীদের অংশগ্রহণ দেখা গেছে। কিন্তু একজন পুরুষ সৈনিক নারী চোরাচালানির গায়ে হাত দিয়ে তল্লাশি করতে পারেন না। হিলির মতো এমন সমস্যা যেসব সীমান্তবর্তী চেকপোস্টে হচ্ছিল নারী সৈনিক নিয়োগের মধ্য দিয়ে সে সমস্যার সমাধান হয়েছে। নারী সদস্যরা ব্যাপক সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুল, বাইতুল ইজ্জত, চট্টগ্রামে সফলভাবে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে চলতি বছরের ৫ জুন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯৭ জন নারী সৈনিকদের ১ম ব্যাচটি বিজিবি`র কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। তাদেরই একটি অংশ বেনাপোল সীমান্তে কাজে যোগ দিয়েছেন।

এ বছরের ৩১ জুলাই থেকে বিজিবির ১৫ জন নারী সৈনিককে বেনাপোল আইসিপিতে (আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট) নিযুক্ত করা হয়েছে।

বিজিবির নারী সৈনিকের প্রথম ব্যাচের ৯৭ জনের মধ্যে ১৫ জনকে গত ৫ জুন যশোর ২৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়। এই ১৫ জনই বেনাপোলে বিজিবির আইসিপি ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে (আইসিপি) ১৩ জন ও আমড়াখালি চেকপোস্টে দুইজনকে রাখা হয়। নারী সৈনিকরা ওখানে শুধু দিনের বেলায় দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার `বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল`-এ মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৫ জুন নারী সৈনিকদের ওই প্রথম ব্যাচটি বিজিবির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। এ বছর আরো ১০০ জন নারী সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়, যাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ জুলাই মাসে শুরু হয়েছে। বিজিবিকে আধুনিকায়ন করতে পুরুষ সৈনিকদের পাশাপাশি নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ৯৭ জন নারী সদস্য যোগদান করেছেন। আরো ১০০ নারী সদস্য ট্রেনিং শেষ করেছেন। আরো ১০০ নারী সদস্যকে সিলেক্ট করা হয়েছে। শিগগির তাদেরও ট্রেনিং শুরু হবে।

তিনি বলেন, টেকনাফ, বেনাপোল ও হিলির মতো যেসব এলাকায় নারী পাচারকারীদের আনাগোনা বেশি সেখানে পোস্টিং দেয়া হচ্ছে তাদের। বিজিবির গেটগুলোতেও পুরুষের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা।

তিনি বলছেন, `আধুনিকতার এই যুগে আর নারীদের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আপাতত নারীদের শুধু সৈনিক পদেই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই