মেইন ম্যেনু

নাশকতার মহাপরিকল্পনায় জেএমবি!

মিরপুরে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডের সঙ্গে হোসনি দালানের তাজিয়া মিছিলে ব্যবহৃত গ্রেনেডের মিল রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। হোসনি দালানে বিস্ফোরণের ঘটনায় জেএমবি জড়িত ছিল বলে আগেই জানিয়েছিল পুলিশ।

পুলিশ বলছে, মিরপুরের শাহ আলীর আস্তানাটিতে জঙ্গিরা নিজেরাই তৈরি করতো হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা। তাদের ধারণা, এই কারখানা থেকে তৈরি পর বোমা বা গ্রেনেড বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। এ ধরনের গ্রেনেড তৈরির জন্য জেএমবির আলাদা একটি দলও রয়েছে। তারা নাশকতার মহাপরিকল্পনা করেছে।

বৃহস্পতিবার জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করা হয় হাতে তৈরি এসব গ্রেনেড। সেখান থেকে বোমা রাখার একটি বিশেষ জ্যাকেট ও গ্রেনেড তৈরির প্রচুর উপকরণ এবং বিশেষ এক ধরনের জেলও উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, জঙ্গিরা নিজেরাই এসব গ্রেনেড তৈরির পর বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতো। এসব গ্রেনেড নাশকতায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। উদ্ধারকৃত গ্রেনেড বেশ শক্তিশালী। আরও শক্তিশালী করতে এক ধরনের জেলও ব্যবহার করতো তারা। আস্তানা থেকে বিশেষ জেলও উদ্ধার করা হয়।

জানতে চাইলে মিরপুরের শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শাহিন মণ্ডল জানান, ‘জেএমবি সংগঠিত হয়ে নাশকতার মহাপরিকল্পনা করছে। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নাশকতার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে তৎপর রয়েছে।’

গত বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা পর্যন্ত মিরপুর-১ এর ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ভবন থেকে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে বুধবার একজনকে আটক করা হয়, যাঁর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে হাতে তৈরি ১৬টি গ্রেনেড (আইইডি—ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), দুটি ককটেল, বোমা বা গ্রেনেড রাখার একটি বিশেষ জ্যাকেট ও গ্রেনেড তৈরির প্রচুর উপকরণ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, আগের রাতের একজনসহ আটক মোট সাতজনের মধ্যে তিনজন নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অন্য চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। এই চারজন পাশের ফ্ল্যাটে থাকত।

অবশ্য আটক জেএমবির তিন সদস্যের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেনি পুলিশ। ডিবির কর্মকর্তারা কেবল বলেছেন, তিনজনই বয়সে তরুণ। এঁদের মধ্যে একজন গ্রেনেড তৈরির মূল কারিগর। তাঁর বাড়ি উত্তরবঙ্গে। তাঁরা ওই বাসাটি গ্রেনেড ও বোমা তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। সেখানে লেদ মেশিনের যন্ত্র থেকে শুরু করে গ্রেনেড তৈরির প্রচুর সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, যা দিয়ে অন্তত ২০০ গ্রেনেড তৈরি করা সম্ভব।






মন্তব্য চালু নেই