মেইন ম্যেনু

নাসিরের প্রশংসায় উইজডেন ইন্ডিয়া

রানের জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই মরিয়া হয়ে ছিলেন নাসির হোসেন, কিন্তু ব্যাটেবলে ঠিকমতো হচ্ছিল না। মাঝে মধ্যে চমক দেখালেও কেনো যেন পুরোপুরি হচ্ছিলো না। রানের সেই ব্যাকুলতা ভারতে ‘এ’ দলের সফরে ঘুচিয়ে দিল ব্যাটিংয়ের খরা। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলকে ৬৫ রানে হারায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেই ম্যাচে নাসির শত রানের ঝিলিক তো দেখালেনই, দলকে নিয়ে গেলেন সম্মানজনক স্থানে। সেইসাথে বোলিংয়ে কারিশমা দেখিয়ে দলকেও নিয়ে গেলেন জয়ের বন্দরে। যদিও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি বাধায় ২-১ এ সিরিজ খোয়াতে হয় নাসিরদের।

মহাকাব্যিক এ ম্যাচ খেলার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলো নাসিরকে নিয়ে ফিচার লিখেছিল। পিছিয়ে নেই ‘উইজডেন ইন্ডিয়া’। তারা অলরাউন্ডার নাসিরকে নিয়ে লিখতে গিয়ে তাকে তুলনা করেছেন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, গ্রায়েম হিক, পল কলিংউড, শহীদ আফ্রিদি, সৌরভ গাঙ্গুলি, স্কট স্টাইরিস আর আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে।

উইজডেন ইন্ডিয়া লিখেছে, ‘ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের দারুণ শতক আর বল হাতে ৫ উইকেট তুলে নেওয়া পরিসংখ্যান ঘাটতে বাধ্য করছে। নাসিরের অর্জনটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হলেও ওয়ানডে ফরমেটের ক্রিকেটে মাত্র দু’জন রয়েছেন শতকের পাশাপাশি একই ম্যাচে ৫ উইকেট বা তার বেশি পেয়েছেন।

পরিসংখ্যান ঘেটে উইজডেন ইন্ডিয়া আরও লিখেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস আর ইংল্যান্ডের পল কলিংউড নাসিরের মতো শতকের পাশাপাশি ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নাসিরের মতো অলরাউন্ড পারফর্ম আরও দেখা যায়।

ভারত সফরের প্রথম ওয়ানডেতে ৯৬ রানের পরাজয়ে ব্যাকফুটে থাকা টাইগাররা অলরাউন্ডার নাসির হোসেনের একক কৃতিত্বে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় তুলে নেয়। ব্যাট হাতে নাসিরের অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথমে স্কোরবোর্ডে ২৫২ রান জমা করা টাইগাররা। সিরিজে জয় নিশ্চিত করতে নামা ভারত ১৮৭ রানেই গুটিয়ে যায়। তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন নাসির। অনেকটা একাই ভারতের দলটিকে হারান টাইগার অলরাউন্ডার।

সফরের প্রথম ম্যাচে নাসিরের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। তবে, দ্বিতীয় ম্যাচে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে নিজের জাত চেনান টাইগারদের অলরাউন্ডার নাসির। বোলিংয়ে এসে একে একে ফিরিয়ে দেন উন্মুখ চাঁদ, সুরেশ রায়না, করুন নায়ার, রিশি ধাওয়ান আর কালারিয়াকে। দলীয় ৩৪তম ওভারে আক্রমণে এসে একই ওভারে ফিরিয়ে দেন রায়না আর নায়ারকে। ১৮৭ রানে ভারতকে গুটিয়ে দিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া নাসির ১০ ওভার বল করে মাত্র ৩৬ রান খরচ করেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলার হিসেবে অপরিহার্য হয়ে ওঠা নাসিরকে কেন বলা হতো ‘মিস্টার ফিনিশার’ তা তিনি ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই