মেইন ম্যেনু

নায়িকার কান্না, অপমানিত পরিচালক

simp‘গণেশ উল্টে দেওয়া’ বহুল ব্যবহৃত একটি বাংলা প্রবাদ। বৃহস্পতিবার শব্দটির বাস্তবিক প্রয়োগ দেখালেন সিমলা। ‘ম্যাডাম ফুলি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এ অভিনেত্রী বিএফডিসি’র বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির বিশ্রাম কক্ষে বসা বিচারে সবকিছু নিজের পক্ষে নিয়ে নিলেন মুহূর্তে। সে ঘটনার সাক্ষি রইলেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’র পরিচালক রুবেল আনুশকে বাধ্য করালেন ‘সরি’ বলতে।

বেশ কয়েকদিন ধরে ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ সিনেমার সেটে সময়মত সিমলার উপস্থিত না থাকা ও শুটিং প্যাকআপ হাওয়া নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয় শিল্পী সমিতিতে। তার সূত্রে ঘটে নাটকীয় ঘটনা।
প্রযোজক সমিতির বিশ্রাম কক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রযোজক নেতা ইকবাল হোসেন ও খোরশেদ আলম খসরুর উপস্থিতিতে সিমলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আর বলেন, ‘রুবেল আমাকে কিডন্যাপ করাতে চেয়েছিল। ছাত্রলীগে ছেলেদের দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।’

রুবেল আনুশ প্রমাণ দিতে বললে ক্ষেপে যান এ নায়িকা। ছবিটির অন্যতম অভিনেতা শিমুল খান প্রতিবাদ করলে সিমলা তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পরবর্তীতে রুবেলকে এক প্রকার বাধ্য করে ‘সরি’ বলান প্রযোজক নেতা ইকবাল। এ সময় ইকবাল তাকে সিমলাকে দিয়ে নতুন শিডিউলে কাজ করানোর কথা বললে রুবেল রাজি হননি। রুবেল বলেন, ‘আমি আপনাকে (সিমলা) হুমকি দিয়েছি এর কোন প্রমাণ আপনি দিতে পারবেন না। তাছাড়া আপনাকে আগের দিন আমি সময় ও জায়গা জানিয়ে দিয়েছি। এর জন্য সকালে ড্রাইভার পাঠিয়েছি। কিডন্যাপ করতে নিশ্চয় আমি শুটিং ইউনিটের গাড়ি পাঠাবো না। আমার কাছে কিন্তু আপনি আমাকে হুমকি দেওয়ার কল রেকর্ড আছে।’ তখন রুবেল রেকর্ড শুনাতে চাইলেও প্রযোজক নেতা ইকবাল শুনাতে দেননি। পরবর্তীতে রুবেল বলেন, ‘আমি সিমলা আপুকে নিয়ে আর কাজ করব না। আমার ছবির যা ক্ষতি হই হোক।’-এ কথা বলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সিমলাও উঠে ভেতরের রুমে চলে যান। সংবাদকর্মীদের সাথে কোন কথা বলতেও রাজি হননি।

সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদকর্মীদের রুবেল বলেন, “ভাই আমি নতুন করে কী বলব? আপনাদের সামনেই সব ঘটল। আপনারা জানেন আপু (সিমলা) এর আগে কয়বার আমার শিডিউল ফাঁসিয়েছে। আজকে আমাকে যে আপমানটা করল এটা নিয়ে শুধু বলব—‘উপরওলা বিচার করবেন।”

উল্লেখ্য সিমলা ৮ আগস্ট সকাল ১০টার কলে বিকেল ৫টায় সেটে আসার পর পরিচালক ক্ষোভে শুটিং প্যাকআপ করে দেন। পরবর্তীতে সিমলা নিজ থেকে ফোন করে শিডিউল দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে গাড়ি পাঠানোর পরও তিনি সেটে আসছিলেন না। এক সময় সাথে থাকা ড্রাইভারের ফোন বন্ধ করে দেন। তখন পরিচালক বাধ্য হয়ে শিল্পী সমিতি লিখিত অভিযোগ করেন। তার ঘন্টাখানেক পরে সিমলা শিল্পী সমিতিতে না এসে প্রযোজক সমিতির বিশ্রাম কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখানে নাটকীয় ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিমলা কোথায় ছিলেন? এ ব্যাপারে শুটিং ইউনিট থেকে পাঠানো গাড়িচালক বলেন, ‘তিনি বাসা থেকে বের হয়ে একেকবার একেক দিকে যেতে থাকেন। একসময় র‍্যাব-৩ অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তাকে কিডন্যাপের অভিযোগ দিতে চান। কিন্তু র‍্যাব কর্মকর্তারা উপযুক্ত প্রমাণ হাতে নিয়ে অভিযোগ জমা দিতে বললে বেরিয়ে আসেন। সেখান থেকে ধানমন্ডির একটি পার্লারে ঢুকেন। ঢোকার সময় আমার ফোন নিয়ে বন্ধ করে দেন।’

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে রুবেল আনুশ শিল্পী সমিতিতে অভিযোগ করতে আসলে সিমলা তাকে ফোনে ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলব’ বলে হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান বলেন, ‘অভিযোগ জমা পড়েছে বলে শুনেছি। যেহেতু প্রযোজক সমিতি থেকে মীমাংসা হয়ে গেছে তাই এ ব্যাপারে আমাদের আর কিছু করার থাকে না। কারণ মীমাংসিত বিষয়ের তো আর বিচার করা যায় না।’

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফডিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওর বিরুদ্ধে তো এর আগেও অনেকেই শিডিউল ফাঁসানোসহ নানান অভিযোগ করেছে। কিন্তু কোথায় কেমনে জানি ও পার পেয়ে যায়।’






মন্তব্য চালু নেই