মেইন ম্যেনু

নিখোঁজ সেই মেঘলা জঙ্গি নাকি পলাতক প্রেমিকা?

খুলনার রূপসা থেকে মাস ছয়েক আগে নিখোঁজ হওয়া তরুণী খাদিজা নুর মেঘলা জঙ্গি নাকি পলাতক প্রেমিক সে প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি। সুশ্রী চেহারার ওই তরুণীকে নিয়ে তাই রহস্যের মেঘও কাটছে না।

সম্প্রতি দেশে কয়েকটি বড় জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার পরে সারাদেশের নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। খুলনা জেলা থেকে নারীসহ ১৬০ জন নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। যাদের প্রাথমিকভাবে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ তালিকায় নাম রয়েছে তরুণী মেঘলার।

যদিও নিখোঁজদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। আবার অনেক নারী প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে যে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছে সেটাও সামনে চলে এসেছে। কেননা, তালিকা প্রকাশের পরেই অনেক তরুণ-তরুণী তাদের পরিবারকে বিষয়টি অবগত করেছে।

এমন দৃষ্টান্তও আছে- নিখোঁজ তরুণ-তরুণীরা পরিবারের কাছে গিয়ে তাদের পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- রূপসা থেকে কীসের টানে তরুণী মেঘলা বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের হাসপাতাল রোড এলাকায় পল্লীতে অবস্থান নিয়েছে? বিষয়টি পরিষ্কার নয় কারো কাছেই। এর ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় তরুণী মেঘলার আত্মগোপনের বিষয়টি রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

যদিও পুলিশ বলছে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। তারা খোঁজ-খবর নিয়ে তরুণীর এভাবে আত্মগোপনের বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলোচিত তরুণী মেঘলা খুলনার রূপসা থানার আইচগাতা এলাকার মৃত মোক্তার হোসেনের মেয়ে। স্থানীয় বঙ্গবন্ধু কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে কলেজ যাওয়ার পথে রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরে ১৬ মার্চ মেঘলার মা আনোয়ারা বেগম রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন( নং-৭৪৫)।

গত ৫ মাস ধরে সেই জিডি রূপসা থানায় তদন্তের হিমাগারেই পড়েছিল। সম্প্রতি জঙ্গিবাদে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ হলে নিখোঁজ মেঘলাকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। তার অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ার কারণে রূপসা থানা পুলিশ তার সম্পর্কে নীরবতাই পালন করে।

এদিকে, অনুসন্ধান করা হলে তরুণী মেঘলার নিখোঁজ হওয়ার পেছনের একটা গল্প বের হয়ে আসে। বরিশালের সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের হাসপাতাল রোড এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে সাঈদ মিয়া রূপসা থেকে তরুণী মেঘলাকে অপহরণ করেন। এরপর তাকে আটকে রাখা হয় অপর অপহরণকারী হাবিবুর রহমানের বাসায়। অপহরণকারী হাবিবুর রহমান আর সাঈদ সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নে। সাঈদ পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী।

তবে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, অপহরণ নয়, প্রেমের টানেই বাড়ি ছেড়ে বরিশালে পাড়ি জমান তরুণী মেঘলা। এমনকি সাঈদ মিয়া তাকে বিয়ে করেছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছে। ঘটনাটি এতোদিন ধরে গোপন থাকলেও প্রশাসনের সন্দেহভাজন জঙ্গির তালিকায় মেঘলার নাম আসায় তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, অপহরণের পর তরুণী মেঘলাকে নিয়ে সাঈদ মিয়া যশোরেও অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জেনে পুলিশ তৎপরতা শুরু করায় তারা পালিয়ে বরিশালে চলে আসে। স্থানীয়দের দাবি, মেঘলাকে অপহারণকারীর তালিকায় সাঈদ মিয়া ও তার মামা হাবিবুর রহমান ছাড়াও রয়েছে মামাতো ভাই আব্দুর রব মিয়ার ছেলে কালামও। এরাই ওই তরুণীকে আটকে রেখেছে।

বরিশাল পুলিশের সতর্ক অবস্থানের মধ্যেও তালিকাভূক্ত নিখোঁজ তরুণী কীভাবে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত যখন, তরুণীটির নিখোঁজ থাকার বিষয়ে খুলনার রূপসা থানায় জিডিও করা আছে।

জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী কমিশনার (এসি) ফরহাদ সরদার জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তরুণীকে অপহরণের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বিশেষের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া তরুণীটি জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। উদ্ধার করে আইনানুযায়ী রূপসা থানায় হস্তান্তর করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই