মেইন ম্যেনু

নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর দণ্ড কার্যকরের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মূলত এরমধ্যে দিয়েই নিজামীর দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।

ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় পরোয়ানা জারি করেন। এরপর বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেয়া হয় কারাগারে। অনুলিপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও।

সর্বোচ্চ আদালত এ যুদ্ধাপরাধীর মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ পরোয়ানা জারি করা হলো।

এরআগে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সর্বশেষ একইদিনে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর। তাদের সময় দেখা গিয়েছিল পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশের পরদিন মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছায়। আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী রায়ের অনুলিপি নিয়ে যান। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক তা গ্রহণ করেন। রায়ের অনুলিপি ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এরপরই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ বিচারপতি শাহিনূর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুপরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন।

এখন নিজামীর হাতে রয়েছে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের সুযোগ; তবে তা করতে হবে ১৫ দিনের মধ্যে। রিভিউয়েও যদি নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে তবে তার সামনে খোলা থাকবে কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ। আর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি না পান তবে সাকা-মুজাহিদ-কাদের মোল্লা-কামারুজ্জামানের মতো তারও দণ্ড কার্যকর করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এখন আসামি পক্ষ রিভিউ পিটিশন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন। আজ থেকে এই সময় গণনা শুরু হবে। এ সময়ের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দায়ের না করলে নিজামীর দণ্ড কার্যকরে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না। তবে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হলে দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।

নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রায় পর্যালোচনা করে অবশ্যই রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হবে। যেসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে আশা করি রিভিউয়ে সেসব অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পাবেন।

সাবেক মন্ত্রী নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ৪টিতে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া আরো চারটিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর আপিল করেন তিনি। ২১ পৃষ্ঠায় মূল আপিল আবেদনের সঙ্গে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়। মূল আপিলে ১৬৮টি গ্রাউন্ড পেশ করে দণ্ড থেকে খালাস চাওয়া হয়। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তিনটি অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া নিজামীর মামলাটি ছিল ষষ্ঠ মামলা। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আরো ৫টি মামলা আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই