মেইন ম্যেনু

নিজামী-মুজাহিদের প্লট বাতিলের বৈঠক কাল

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের প্লট বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে কাল রবিবার।

আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা অননুমোদিত অনাবাসিক স্থাপনা ও ভবন উচ্ছেদসংক্রান্ত একটি সভা রবিবার বেলা আড়াইটায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই সভায় নিজামী-মুজাহিদের প্লটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, নিজামী ও মুজাহিদের প্লটের বিষয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে যেকোনো দিন এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব এম বজলুল করমি চৌধুরী বলেন, “রবিবার মন্ত্রণালয়ে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা অননুমোদিত অনাবাসিক স্থাপনা ও ভবন উচ্ছেদসংক্রান্ত সভা রয়েছে। সেখানে নিজামী ও মুজাহিদের বিষয়টি থাকতে পারে।”

বজলুল করিম বলেন, “সিদ্ধান্ত হলে নিজামী-মুজাহিদের প্লট বাতিল করা হবে।”

তবে বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগতে পারে বলেও মনে হচ্ছে রাজউক চেয়ারম্যানের কথায়। তিনি বলেন, বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো অনেক কাজ করতে হবে।

রাজউকে সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের প্লট বাতিলের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজউক বোর্ডের একাধিক সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হওয়ার পর সরকারের নির্দেশে মুজাহিদ ও নিজামীর প্লট সম্পর্কে তারা পর্যালোচনা শুরু করেছেন। প্লট দুটির বরাদ্দ বাতিলের আইনগত দিক খতিয়ে দেখছেন তারা। বরাদ্দ বাতিল করলে কোনো আইনগত সমস্যা তৈরি হবে কি না সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে ২০০৬ সালের ২১ মে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ’ বনানীর ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর হোল্ডিংয়ের পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লটটি মতিউর রহমান নিজামীর নামে বরাদ্দ দেয় রাজউক। এ সময় তিনি জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১০ মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়।

২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর রাজউকের ১৬২তম বোর্ড সভায় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে রাজউকের উত্তরা মডেল টাউনের ১১ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডের ৫ নম্বর প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ সময় তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ২২ নভেম্বর আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়।

রাজউক জানায়, ভূমি বরাদ্দ বিধিমালার ১৯৬৯ (সংশোধিত) ১৩/ক ধারা বলে তাদের প্লট দেয়া হয়েছিল। ১৩/ক ধারায় বলা আছে, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তি, যার রাজধানীতে থাকার জায়গা নেই, তাকে প্লট বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এ ধারায় রাজউকের প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য।

বরাদ্দ পাওয়ার পর মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ তাদের প্লট মিশন ডেভেলপার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেন। দুজনের প্লটেই ছয়তলা ভবন ওঠে। মুজাহিদের প্লটে নির্মিত ভবনের নাম হয় তার স্ত্রী তামান্না জাহান বেলা ও মিশনের নামে ‘মিশন তামান্না’। একইভাবে নিজামীর ভবনের নাম দেয়া হয় তার স্ত্রী শামসুন্নাহারের নামসহ ‘মিশন নাহার’।

দুটি ভবনের নিচতলায় গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান। এ ছাড়া প্রত্যেক তলায় দুটি করে মোট ১০টি ফ্ল্যাট।

তৃতীয় তলার দুটি ফ্ল্যাটে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতেন মুজাহিদ। অন্য তিনটি ফ্ল্যাট তার সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছেন বলে জানান ভবনের এক নিরাপত্তা কর্মী।

নিজামীর ভবনে ১০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে নিজামী পেয়েছেন মোট ছয়টি। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বনানী লেকপাড়ের ওই বাড়িতেই থাকতেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার‌্যকর হওয়া কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লারও মিরপুর সাংবাদিক পল্লীতে প্লট রয়েছে। তবে তারা ওই প্লট সরাসরি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাননি। সরকার সাংবাদিক সমিতিকে জমি দিলে প্লট আকারে তা সমিতির সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আমৃত্যু সাজা পাওয়া জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্লট পেয়েছেন পূর্বাচলে।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির নেতা মোহাম্মদ কায়সারও রাজউক থেকে প্লট পেয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই