মেইন ম্যেনু

‘নিজেকে হিজড়া পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি’

অন্য কোনো নাম বা পরিচয়ে নয়, আমি হিজড়া পরিচয়েই থাকতে চাই। হিজড়া হিসেবেই আমরা গর্ববোধ করি। সমাজে মানুষ হিসেবে শুধু এ অধিকার টুক‍ু চাই আমরা।

এভাবেই নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে এসব কথা বলছিলেন অনন্যা হিজড়া।

বুধবার (২৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলন কক্ষে এক এক গোলটেবিল বৈঠকে এভাবেই বলছিলেন তিনি।

‘যৌন সংখ্যালঘুদের জন্য মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের প্রধান আলোচক ছিলেন বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. স‍ূচি করিম।

আলোচনায় অংশ নেন জুয়েল মাজহার, হেড অব নিউজ মাহমুদ মেনন, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মসূচী পরিচালক মো. ফসিউল আহসান, পরামর্শ কর্মকর্তা সালেহ মোহাম্মদ সাফি, শারমীনা ইসলাম প্রমুখ।

নিজের অধিকার ও কর্ম সম্পর্কে অনন্যা হিজড়া বলেন, আমি অনন্যা, আমি অনন্যা হিজড়া। আমি আমার কথা বলছি, আমাদের কথা বলছি, এই পরিচয়ে আমি গর্বিত বোধ করছি, নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে আমি অনন্যা হিজড়া এই পরিচয় দিতে।

‘আমার অনুজ ও তাদের অনুজ সবাই হিজড়া হিসেবেই ছিলেন, এ পরিচয়েই চলে গেছেন, কাজেই আমিও অনন্যা হিজড়া, হিজড়া হিসেবেই থাকতে চাই। হিজড়া হিসেবেই বাঁচতে চাই। আমার পরের জেনারেশনও (প্রজন্ম) হিজড়া হিসেবেই থাকতে চায়।’

তিনি বলেন, হিজড়া হিসেবেই সমাজে আমি আমার অধিকার চাচ্ছি। আমি হাত বাঁড়িয়ে দিয়েছি, আমাকে হাত ধরে এগিয়ে নিতে হবে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অনন্যা হিজড়া বলেন, আপনারা আমাদের সম্পর্কে যদি একটু ইতিবাচক দৃষ্টি দেন তাহলে পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগবে না। তবে পরিবর্তন যে হয়েছে তা এখন থেকেই প্রতিয়মান হয়।

‘আজ থেকে ১০ বছর আগে আমি একজন সাংবাদিকের পাশে বসার সাহস পেতাম না। কিন্তু আজ এখানে আপনাদের পাশে বসে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। এটা একটা বড় পরিবর্তন। এটা রাতারাতি হয়তো হবে না। তবে আশা করছি একদিন হবে।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরেবর্তী কোনো সরকারই আমাদের কথা বলেনি। আজ আমি নারী না হয়েও আমাকে বাধ্য হয়ে ‘নারীত্ব’ বরণ করতে হচ্ছে। সমাজ যখন আমার একটা লেবেল দিয়ে দিয়েছে, আমি সেই পরিচয়েই বাঁচতে চাই।

অনন্যা হিজড়া বলেন, আমরা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই, কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে। আমাদের বিভিন্ন অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

‘আমাদের বিভিন্ন সেক্টরে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ও শিল্পপতিরা যদি একটু দৃষ্টি দেন তাহলে এ পরিবর্তন আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না।’
তিনি বলেন, সমাজকে যে কোনো ভাবে বুঝাতে হবে, আমি ভয়ঙ্কর কিছু নই, সমাজের বোঝাও নই। এমনকি অস্বাভাবিক কিছুও নই।
‘এটা সমাজকে বুঝাতে পারলেই দূরত্ব কিছুটা কমবে,’ বলৈন অনন্যা হিজড়া।বাংলানিউজ






মন্তব্য চালু নেই