মেইন ম্যেনু

নিজের অজান্তেই যেভাবে পানির অপচয় করছেন আপনি

আপনি কি জানেন পৃথিবীর মাত্র ২% স্বাদুপানি এবং এর ১.৬% হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলে আবদ্ধ? আমাদের ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র ০.৪% থাকে। সুতরাং আমরা যদি এখনই পানি সংরক্ষণ না করি এবং এই মূল্যবান সম্পদের অপচয় করতে থাকি তাহলে অতি শীঘ্রই পরিষ্কার পানি ফুরিয়ে যাবে। আপনি মনে করছেন যে আপনি পানি অপচয় করেন না? কী কী উপায়ে আপনি নিজের অজান্তেই পানি অপচয় করছেন জেনে নেয়া যাক আসুন।

১। এয়ারকন্ডিশনার থেকে টপ টপ করে পানি ঝরা
গরম এসে গেছে তাই এখন অনেকেই এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। আপনি কি লক্ষ করেছেন যে আপনার উইন্ডোসিল এর নীচে ক্রমাগত পানির ফোঁটা পড়ছে? এই ভাবে পানির অপচয় হতে না দিয়ে বরং এই পানি জমিয়ে রেখে গাছে অথবা ওয়াশ রুমে ব্যবহার করতে পারেন।

২। বৃহৎ ফ্লাশ ট্যাংক
গড়ে একটি ফ্লাশ ট্যাংক সাত লিটার পানি ধারণ করতে পারে। এর অর্থ যদি আপনি দিনে ৭ বার ফ্লাশ করেন তাহলে ৪৯ লিটার পানি খরচ করছেন। আপনার পরিবারের সবাই এটি ব্যবহার করছেন, একবার নিজেই হিসাব করে দেখুন! তাই ছোট আকারের ফ্লাশ লাগানো ভালো অথবা এমন ধরণের ফ্লাশ ট্যাংক ব্যবহার করুন যাতে বিভিন্ন পরিমাণের পানি ব্যবহারের সুযোগ আছে।

৩। স্প্রিঙ্কলার
গাছে পানি দেয়ার জন্য স্প্রিঙ্কলার অনেকক্ষণ যাবত ছেড়ে রাখলে পানির অপচয় হয়। এক্ষেত্রে সতর্ক হোন।

৪। দীর্ঘক্ষণ যাবত শাওয়ার ব্যবহার করা
গোসলের সময় শাওয়ারের নীচে আপনি কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকেন, আপনার সমস্ত সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে থাকেন? এছাড়াও ট্যাপ ছেড়ে রেখে চলে যান ফলে বালতি উপচে কয়েক মিনিট যাবত পানি পড়তে থাকে? এই প্রকারে অনেক বেশি পানির অপচয় হয়। শাওয়ার এর নীচে খুব বেশিক্ষণ দাড়িয়ে থাকবেন না এবং ট্যাপ ছেড়ে রেখে অন্য কোথাও চলে যাবেন না।

৫। পানির পাইপ বা ট্যাপ এ লিক হওয়া
একটি টেপ লিক হলে মিনিটে ৩০ ফোঁটা করে দিনে ১০ লিটার পানির অপচয় হয়। প্রতিটা ঘরে যদি এমন একটি ট্যাপ থাকে তাহলে চিন্তা করে দেখুন কি পরিমাণ পানির অপচয় হয়। কল ফুটো হওয়া ছাড়াও দাঁত ব্রাশ করার সময় বা থালা বাসন ধোয়ার সময় অনেকেই কল ছেড়ে রাখেন। ট্যাপ লিক হলে দ্রুত সারিয়ে নিন এবং আগে থেকেই কল ছেড়ে না রেখে দাঁত মাজা বা বাসন কোসন মাজা শেষ হলেই কল ছাড়ুন।

৬। পাইপ লাইন বার্স্ট হওয়া
প্রায়ই পানির পাইপ বার্স্ট হতে দেখা যায়। যার ফলে প্রচুর পানির অপচয় হয়। একজন দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে এই রকম অপচয় দেখলেই স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবগত করুন যাতে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করতে পারে।

৭। উৎসবে পানির অপচয়
দুর্গা পূজা ও গণপতি উৎসবে অনেক মূর্তি পানিতে বিসর্জন দেয়া হয়। এই মূর্তিগুলো প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে তৈরি করা হয় যা খুব সহজে ক্ষয় হয়না। তাই পানির মধ্যে অনেকদিন পর্যন্ত থেকে যা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই মূর্তি গুলো কাদা মাটি দিয়ে তৈরি করা উচিৎ এবং কৃত্রিম পুকুরে বিসর্জন দেয়া উচিৎ। হোলির সময় পানিতে রঙ মিশিয়ে ব্যবহার না করে শুকনো রঙ ব্যবহার করা উচিৎ।
যদি আপনি পানি স্বল্পতায় না পড়তে চান তাহলে পানির অপচয় রোধে আজই সচেতন হোন।






মন্তব্য চালু নেই