মেইন ম্যেনু

নিজের অজান্তেই স্বামী/স্ত্রীর সাথে যে অন্যায়গুলো করেন প্রায় সকলেই!

ভালোবাসার মানুষটাকে খুশি রাখতে চান প্রত্যেকেই। চান আরো একটু বেশি ভালো থাকুক প্রিয় মানুষটির মন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার করা দৈনন্দিন কিছু ছোটখাটো আচরণগুলোই খুব সহজে বাড়িয়ে দেয় আপনাদের সম্পর্কে তিক্ততা? এমনিতে হয়তো খুব সহজ আর স্বাভাবিক কিছুই মনে হবে আপনার বিষয়গুলোকে। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই আপনি দেখতে পাবেন এই একেবারে ছোট্ট আর বেখেয়াল বিষয়গুলোই ভীষনভাবে কষ্ট দিচ্ছে আপনার সঙ্গীকে। হয়তো সেটার প্রভাব খানিকটা হলেও গিয়ে পড়ছে আপনাদের সম্পর্কের ভবিষ্যতে। ধরছে ফাটল, বাড়ছে দূরত্ব আর ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্ক।

১. সন্তানকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া

অনেক নারীই বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় সন্তানদেরকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে সঙ্গীকে দেওয়ার মতন পর্যাপ্ত সময়ই থাকেনা তার। সারাটা দিন সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ততা, সবসময় তার ব্যাপারেই চিন্তা করা ও কথা বলা খুব দ্রুতই বাড়িয়ে দেয় স্বামী-স্ত্রীর ভেতরের দুরত্ব। নিজের পুরোটা সময় ও শক্তি সন্তানকে দিয়ে দেওয়াতে অনেকেই নিজের সঙ্গীর প্রতি জেনে বা না জেনেই করে ফেলেন অবিচার । ফলে বেড়ে যায় সম্পর্ক ভাঙার ঝুঁকিও।

২. অন্যের সাথে অনুভূতির বিনিময়

আপনার মনের সব রকমের কথা বলার জন্যে প্রথমেই আপনি যাকে চাইবেন তিনি আপনার স্বামী বা স্ত্রী। কিন্তু মাঝে মাঝে পরিস্থিতি এমনটা দাঁড়িয়ে যায় যে সঙ্গী নয়, বরং অন্য কোন মানুষকেই নিজের সব কথা বলতে চাইছেন আপনি, সব অনুভূতিগুলো বিনিময় করছেন। আর সেক্ষেত্রে আপনি মানসিকভাবে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন মনরোগবিশেষজ্ঞ ফুজান জেইন। শুধু ভাব বিনিময়ই নয়, দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধুদের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশাও ভালোরকমের প্রভাব রাখতে পারে আপনার সম্পর্কে।

৩. প্রযুক্তির সাথে অতিরিক্ত সময় কাটানো

দরকারের সময়ে মোবাইল বা ল্যাপটপে বসা কিংবা খানিকটা সময় ভিডিও গেমে ব্যস্ত থাকা খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। তবে সেটা সত্যিই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন সঙ্গীকে পাশে রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা এসব অন্যান্য জিনিসের প্রতি অতিরিক্ত মনযোগ দেন আপনি। আপনার হয়তো কিছু মনে হবে না। কিন্তু পাশের জনকে খুব সহজেই এভাবে বোঝাতে পারেন আপনি যে সে খুব একটা গুরুত্ব রাখে না আপনার জীবনে। এরচাইতে মোবাইল বা অন্যান্য জিনিসই আপনার কাছে বেশি দরকারী। যেটা কিনা আপনার সম্পর্ককে নিয়ে যেতে পারে বিচ্ছেদ পর্যন্ত।

৪. অর্থনৈতিক গোপনীয়তা

অনেকেরই অভ্যাস থাকে গোপনে খানিকটা অতিরিক্ত কেনাকাটা করা কিংবা খরচ করে ফেলা। অনেকে আবার নিজের উপার্জনের সঠিক সংখ্যা পর্যন্ত সঙ্গীকে বলেন না। খুব একটা বড় ব্যাপার না হলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ বড় প্রভাব রাখে এটি। ২০১১ সালে ন্যাশনাল এনডোউমেন্ট ফর ফিনান্সিয়াল এডুকেশন পরিচালিত একটি গবেষণায় পাওয়া যায় যে, এমন পরিস্থিতিতে শতকরা ৬৮ ভাগ সময়ে অন্য মানুষটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যার ভেতরে ১৬ শতাংশ মানুষ বিচ্ছেদ করে ফেলে।

৫. গোপন কথা বিনিময়

বন্ধুদের সাথে গল্প করার সময় স্বামী বা স্ত্রীর নানারকম নেতিবাচক বিষয়গুলো গল্পচ্ছলেই বিনিময় করে ফেলেন অনেকে। ভাবেন এমন তুচ্ছ ব্যাপার খুব একটা প্রভাব ফেলবে না কখনো। কিন্তু বাস্তবে অন্যের মুখ থেকে নিজের ব্যক্তিগত কোন ব্যাপার জানতে কেমন লাগবে আপনার ভেবে দেখেছেন কখনো? ঠিক তেমনটাই লাগবে যখন আপনার সঙ্গী আপনারই কোন বন্ধুর কাছ থেকে শুনতে পাবে তার সাথে আপনার সম্পর্কের ব্যক্তিগত কোন সমস্যার কথা।

৬. চুপ হয়ে থাকা

দাম্পত্য জীবনে অনেক ধরনের সমস্যাই হয়ে থাকে। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধানের জন্যে দুজনের কথা বলা উচিত। অপরপক্ষকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি যদি চুপ হয়ে যান আর সঙ্গীকে কথা বলার সুযোগ না দেন তাহলে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়বে সে। কে জানে এই হতাশার ফল কোথায় গিয়ে পড়বে!

দাম্পত্য দুজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক। আর একে আজীবন ধরে রাখতে পরস্পরকে মূল্যই দিতে হবে সবচাইতে বেশি।






মন্তব্য চালু নেই