মেইন ম্যেনু

‘নির্বাচন আইছে বইল্লাই বুঝি এত কদর’

জমির আলী রিকশা চালান। তার রোজগারেই পরিবার চলছে। সকালে বের হয়ে পড়েন রিকশা নিয়ে। বিকেলে সদাই নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এভাবেই চলছে তার নিত্যদিন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ শহর থেকে কলিমনগরে জমির আলীর রিকশায় করে যাওয়ার পথে আলাপ হলে নাম বললেও ঠিকানা না দিয়ে তিনি বলেন, ‘পৌর নির্বাচন নিয়া আমার কোনো আগ্রহ নাই। কারণ যাদের ভোট দিব, তারা আমাকে কোন সময়ই দেখেনি। তাদের কাছে থেকে তেমন কোনো সহায়তাও পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন কেনও এত কদর। সালাম-আদাবেই তারা এগিয়ে থাকলেও ৩০ তারিখের পর এসব আর মন থাকবই না। নির্বাচন আইছে বইল্লাই বুঝি এত কদর। নির্বাচন আসলেই প্রার্থীদের সোহানুভূতি বাইড়া যায়। তাদের কাছ থেকে এক টাকা খাইলে, একে ১০০ টাকা ফিরত দিতা হইব। তাই আমি টাকাও নিতে রাজি না। অন্যকেও বলছি টাকা নিয়া ভোট দেয়ার দরকার নাই।’

শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ভোটার জমির আরো বলেন, ‘আমার ঘরে ৭টি ভোট আছে। সকল্লে মিলে একজনকেই দিব।’

নবীগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচামাল বিক্রেতা হিরন মিয়া বলেন, নির্বাচন আইছে বইল্লাই বুঝি আমগোর কদর বেড়েছে। এই কদর কইদিন থাকব? তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

জেলার শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর, হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। পৌর শহর মাইকের শব্দে জাগ্রহ হয়ে উঠছে। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন, চাইছেন দোয়া। একইসঙ্গে ভোটারদের ‘খোঁজখবরও’ নিচ্ছেন। তবে, এ ‘খোঁজখবর’ কেবল ভোটের সময়েই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে দাবি মাধবপুর পৌরসভার ভোটারদের। তারা বলছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর কর্তারা তাদের নিজেদের সেবায় ব্যস্ত থাকবেন।

চায়ের দোকানে বসা চুনারুঘাটের ভোটার শিপর মিয়া। হবিগঞ্জের ভোটার কাজল মিয়াও বসেছিলেন। তারা বলছিলেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। কুনো সময়ই তারা (প্রার্থীরা) খোঁজ নিছে না। এখন ভোট শুরু অইছে। তাই আইতাছে। তবে খোঁজখবর ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্তই। এরপর আর খবর নিব না। এখন সেলামও দেয়। ঘরেও আসে। হাত মিলায়। পরে সেলামও নিব না। পরে দেখা করতে পারমিশন লাগবো, কাগজ ধরাইয়া দিব হাতে- গলার স্বর চওড়া করে ফেলব।’

তারা বলেন, ‘ভোট তো দেয়াই লাগব। এটা দায়িত্ব, আমানত। এখন মন্দের ভালো খুঁজতে অইবো।’ পরিশেষে তারা বলেন, ভোট আসে, তারাও আসে, ভোট যায়, তারাও নাই






মন্তব্য চালু নেই