মেইন ম্যেনু

নিষেধাজ্ঞার পাহাড় ভেঙ্গে শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে ‘রানা প্লাজা’

বহুল আলোচিত রানা প্লাজা সিনেমাটি নিষেধাজ্ঞার পাহাড় ভেঙ্গে অবশেষে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে। নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত এ সিনেমায় জুটি বেধে অভিনয় করেন সাইমন সাদিক ও পরীমনি।

এমএ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ সিনেমাটি মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে সিনেমাটির পরিচালক নিশ্চিত করেন।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক নজরুল ইসলাম খান জানান, ‘আগামী শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে। এর আগে আমরা সংবাদ সম্মেলন করবো। সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আছে। তাই আগামী সপ্তাহে মুক্তি দিলে সমস্যা হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শতাধিক হলে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে।’

শামিমা আকতার প্রযোজিত রানা প্লাজা সিনেমাটি গত ৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবার কথা ছিল। কিন্তু ‘রানা প্লাজা’ প্রদর্শনে উচ্চ আদালত ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করলে সিনেমাটির মুক্তি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রযোজক আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করলে, ৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

প্রযোজকের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট এ. এম আমিন উদ্দিন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেয়। এতে সিনেমাটির মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকে না।

এ সিনেমাটিতে পোশাক শ্রমিক ‘রেশমা’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি। তার বিপরীতে আছেন সাইমন সাদিক। সিনেমাতে সাইমন অভিনীত চরিত্রটির নাম টিটু।

নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে সেন্সর বোর্ডে আটকে ছিল সিনেমাটি। বেশ কিছু দৃশ্য, রানা প্লাজা ধসের চিত্রায়ন প্রভৃতি নিয়ে আপত্তি তোলেন সেন্সর বোর্ড। এর পর সিনেমাটির সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। অবশেষে কিছু দৃশ্য সংশোধনের পর ১১ জুন সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দেয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। রানা প্লাজা চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ১৬ সেকেন্ড।

২০১৩ সালে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ নামে একটি বহুতল ভবনের ধসে পরে। এই ঘটনার ১৭ দিন পর ১০ মে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমা নামের এক মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নির্মাতা নজরুল ইসলাম খান তৈরি করেন এ চলচ্চিত্রটি।

সিনেমাটির গল্পে দেখা যাবে, গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রেশমাকে ভালোবাসে তার প্রতিবেশী টিটু। কিন্তু টিটু তাদের চেয়ে অবস্থাপন্ন বলে তার প্রস্তাবে সায় দেয় না রেশমা। টিটুও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। এক দুর্ঘটনা থেকে টিটু রেশমাকে উদ্ধার করে।

এরপর টিটুকে পছন্দ করতে শুরু করেন রেশমা। সায় দেন তার প্রেমে। এর কিছুদিন পর বিয়ে করে টিটু ও রেশমা। তারা ঢাকায় চলে আসে। তখন এক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে টিটু। পরিবারের দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়ে রেশমা যোগ দেয় এক গার্মেন্টসে। এ নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ঘটে রানা প্লাজার দুর্ঘটনা।

সাইমন-পরী ছাড়াও এতে অভিনয় করেন আবুল হায়াত, সাদেক বাচ্চু, কাবিলা, রেহানা জলি, শিরিন আলম, শিউলী আকতার, হাবিব খান প্রমুখ। পরিচালক নজরুল ইসলাম খানের কাহিনী ও চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত এ সিনেমার সংলাপ লিখেছেন মুজতবা সউদ। চিত্রগ্রহণ করেছেন এম এইচ স্বপন।

 






মন্তব্য চালু নেই