মেইন ম্যেনু

নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে সব শিল্প কারখানা

টঙ্গীতে অবস্থিত ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার অভিজ্ঞতার পর দেশের সব ধরনের কারখানাকে পরিদর্শন ও তদারকির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকার এবং ক্রেতারা পোশাক কারখানায় যে সব বিষয় নিশ্চিত করতে চায়, তার সবই দেশের সব ধরনের কারখানায় নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে সকল কারখানা।

এরই মধ্যে দেশে বিদ্যমান কারখানার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিদর্শকদের ইতোমধ্যেই এসব কারখানাকে কার্যতালিকায় আনার নির্দেশও দিয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। ১৮ অক্টোবর শুরু হবে পরিদর্শন কার্যক্রম।

কয়েক বছর আগে পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর দেশের সকল পোশাক কারখানা পরিদর্শন ও তদারকির আওতায় আসে। এসব কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ভবনের কাঠামো, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাসহ আনুষাঙ্গিক অনেক বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। ফলে সরকারের আগ্রহে এসব সমস্যার সমাধানও হয়।

কিন্তু অন্য শিল্প কারখানাগুলো থেকে যায় সকল কর্মসূচি ও তদারকির বাইরে। ট্যাম্পাকোর অভিজ্ঞতার পর দেশের সব ধরনের কারখানাকে পরিদর্শন ও তদারকির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ তালিকায় রয়েছে রাবার, প্লাস্টিক, বয়লার, ইলেকট্রনিকস ও কেমিক্যালসহ বিভিন্ন ধরনের কারখানা।

সূত্র জানায়, কারখানার অগ্নি নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয় এবং শ্রমিক সাধারণ পণ্য উৎপাদন করে এ ধরনের কারখানাগুলোই পরিদর্শনের আওতায় আসবে। পরিদর্শন করা হবে কারখানার অবকাঠামো, অগ্নি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

প্রাথমিকভাবে দেশের প্রায় ২৬ হাজার কারখানার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তালিকায় যুক্ত হবে আরো অনেক কারখানা।

কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর টঙ্গীতে ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই এ উদ্যোগ নিয়েছে ডিআইএফই। অবশ্য এর আগেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। ট্যাম্পাকোর দুর্ঘটনার পর এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এই দুর্ঘটনায় ৩৫ জন শ্রমিক নিহত হয় এবং নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন।

ডিআইএফই-এর মহাপরিদর্শক সৈয়দ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘এতো দিন কেবল পোশাক কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন থেকে অন্য কারখানাও পরিদর্শনের আওতায় আসবে। ১৮ অক্টোবর থেকে এ ধরনের কারখানা পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমতি পাওয়া গেছে।’

রানা প্লাজা ধসের পর দেশের পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার তাগিদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। এরপর পোশাক কারখানাগুলোকে পরিদর্শনের আওতায় আনা হয়। পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬৯৮টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাকর্ড করেছে এক হাজার ৪৬৪টি, অ্যালায়েন্স ৬৮৫টি এবং আইএলও এক হাজার ৫৪৯টি। পরিদর্শনের পর ১১৮টি কারখানা রিভিউ প্যানেলে পাঠানো হয়। আর বন্ধ করে দেওয়া হয় ৩৯টি কারখানা।

জানা গেছে, পোশাক শিল্পবহির্ভূত অন্য কারখানাও পরিদর্শনে মানহীন প্রমাণিত হলে বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

এদিকে ডিআইএফই তালিকা তৈরি করলেও এসব কারখানা পরিদর্শনে কয়েক বছর লেগে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পরিদর্শনের জন্য কমপক্ষে এক হাজার পরিদর্শক দরকার। অথচ বর্তমানে এ সংখ্যা মাত্র ২৫০ জন।

সূত্র জানায়, পরিদর্শনের জন্য দেশব্যাপী আরো কারখানার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে করা ২৬ হাজার কারখানার তালিকা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কাছে (আইএলও) পাঠানো হবে। এসব কারখানা পরিদর্শনের জন্য ব্যয় নির্বাহ করতে সহায়তা করবে সরকার।

এছাড়া জিআইজেড-এর কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং আইএলওর কাছেও চাওয়া হবে। কারণ, ট্যাম্পাকো দুর্ঘটনার পর আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করা হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই