মেইন ম্যেনু

নীরবে চির বিদায় নিলেন বিদিশা

জীবনের লড়াই থেমে গেল বিদিশার। তাকে আর সাহায্যের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার বিকেলে বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবনকে বিদায় জানালেন তিনি।

জ্বর কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে প্রাণবন্ত একটি মেয়ের এমন হাল হবে তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউই !ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিদিশাকে দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠতে বাধ্য৷ মনে হতেই পারে, অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিনি৷ আদতে জটিল চর্মরোগের ফলে এমন সংঙ্কটজনক অবস্থা তার। হাসপাতালে যখন ডাক্তাররা তাকে বাঁচানোর প্রবল লড়াই চালাচ্ছেন, বাইরে তখন সহপাঠীরা চিকিৎসার বিপুল খরচ সংগ্রহ করার অভিযান শুরু করেছে৷ ভারতের পূর্ব পুঁটিয়ারির বাসিন্দা বিদিশা চক্রবর্তী৷

হাজরার উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের ইংরেজি অনার্সের ছাত্রী বিদিশা৷ বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রান্ত কর্মচারী৷ সরস্বতী পুজোর দিন বিদিশার জ্বর হয়েছিল৷ বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রান্ত কর্মী হওয়ায় সিজিএইচএস ক্লিনিকে যান তিনি৷ ডাক্তারের পরামর্শ মতো আনা হয়েছিল দু`ধরনের ওষুধ৷ আল্ট্রাসেট এবং ডক্সিসাইক্লিন৷ ওষুধ খাওয়ার দিন রাত থেকেই সারা গায়ে গোটা গোটা বেরোতে থাকে৷ সকালে বাড়িতে ডাক্তার ডেকে আনা হয়৷ তিনি ডেঙ্গি অথবা হাম হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন৷

এরপর বাইপাসের তিন তিনটে বেসরকারি হাসপাতালে গেলেও সেখান থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ অগত্যা পরিবার বিদিশাকে রোববার বিকেলে বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে রোগ নির্ণয় করে উঠতে পারেননি৷

সোমবার সকালে একজন ডাক্তার এসে দেখেন৷ পরিবারকে জানানো হয়, বিদিশার তিনটে রোগের একসঙ্গে সংক্রমণ হয়েছে৷

রোগ তিনটি হল নিউমোনিয়া-হাম-কনজাংটিভাইটিস৷ এরপরই বিদিশাকে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়৷ অবশেষে জ্বর হওয়ার তিনদিন পর মঙ্গলবার আইডি হাসপাতালে ডাক্তার জানান, বিরল এবং জটিল ত্বকের রোগ স্টিভেন্স জনসন সিনড্রোমে আক্রান্ত বিদিশা৷ নানা সময় অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা সালফার ড্রাগের প্রতিক্রিয়ায় এই রোগটি হয়৷ এটি মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা নষ্ট করে৷ ত্বক প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ শরীরের হাল অনেকটা অগ্নিদগ্ধের মতো মনে হয়৷ এরপর, এনআরএস হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয় বিদিশাকে৷ একপ্রকার নিরুপায় হয়ে বিদিশাকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের কাছে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷

সেখানে চিকিত্সকের জানিয়ে দেন, এই রোগ সারতে সময় লাগবে৷ প্রথম ন`দিনে সাড়ে আট লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়৷ অবসরপ্রান্ত কর্মচারী অমর চক্রবর্তীকে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় আরও সময় লাগবে, চিকিৎসাও যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ৷ এরপর আনুমানিক বিলও দেওয়া হয়৷ তাতে বলা হয়, আগামী ১৫ দিন খরচ হবে কমপক্ষে ১৪ লক্ষ টাকা৷ পুরো টাকাটা জমা করতেও লিখিত ভাবে বলা হয়েছে৷ এরপরই ময়দানে নেমে পড়ে বিদিশার সহপাঠী বন্ধু এবং কলেজের শিক্ষিকারা৷

তার বন্ধু অরুণাভ কুণ্ডু বলেন, আমরা সকাল থেকে বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি৷ অর্থ সাহায্য যে যত দিচ্ছে, তাই সংগ্রহ করার চেষ্টাই রয়েছে৷

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক অফিসেও গিয়েছি৷ কী করে বন্ধুকে বাঁচানো যায় সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না৷` কলেজের সহপাঠী শ্রীতমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন , আমরা গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির পাশের অফিসে গিয়েছিলাম৷ এ ছাড়া কলেজেও অধ্যক্ষার সঙ্গে কথা বলেছি৷ সকলে সাহায্যের জন্য রাজি৷ সকলে মিলে অর্থ সংগ্রহ অভিযানে নেমেছি আমরা৷` তবে, আশার কথা একটাই, বিদিশার বন্ধুরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে শনিবার সন্ধ্যায় ফোন এসেছিল৷ সোমবার সকালে ফের কাগজপত্র নিয়ে কালীঘাটে যেতে বলা হয়েছে বিদিশার সহপাঠীদের৷ আশায় বুক বাঁধছেন সকলে৷ বিদিশাকে যে কলেজে ফেরাতেই হবে৷ কারণ এপ্রিলের ২১ তারিখ শুরু অনার্সের শেষ বর্ষের পরীক্ষা৷






মন্তব্য চালু নেই