মেইন ম্যেনু

নীলফামারীর ডোমারে ও ডিমলায় বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা (নীলফামারী) থেকে: নীলফামারীর ডোমার ও উপজেলায় বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছে মানুষ। একদিকে বিদ্যূতের লোডশেডিং অপরদিকে প্রচন্ড তাপদহে অতিষ্ট এ এলাকার সাধারন মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রম বিঘিœত সহ এইচ,এস,সি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে।

গত কয়েকদিন থেকে বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পরেছে। এমনিতেই প্রচন্ড তাপদহে মানুষের জীবন অস্থির হয়ে পরেছে তার উপর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে পরেছে ডোমার ও ডিমলাবাসী। রবিবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুত ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। আর রাত তিনটার দিকে এই গরমে চলে যায় বিদ্যুৎ আসে সকাল সারে দশটায়। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ে প্রচন্ড ভোগান্তীতে পরেছে এইচ,এস,সি/সমমানের পরীক্ষার্থীরা। মাগরিবের আযানের আগেই চলে যায় বিদ্যুৎ। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুত না থাকায় মুসল্লীদের নামাজ পরতে কষ্ট হলেও সেদিকে চোখ নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। দিনে কম করে ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং দেওয়া হয়। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ে বোরো আবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে দিশেহরা হয়ে পরেছে কৃষক। রাত ১১টা থেকে সকাল পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না। এ কারনে কৃষকদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের এমন বেহাল দশায় সাধারন মানুষসহ ব্যবসায়ীদের নানা সমস্যায় পরতে হচ্ছে। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি কমে গেছে বলে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। বিদ্যুতের এমন সমস্যার কারন জানতে বিদ্যুত অফিসে ফোন করলেও কাউকে পাওয়া যায়না। বিদ্যুত অফিসের সরকারী নম্বর (০১৭৫৫৫৮৪৯০২) ফোন দেওয়া হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনা। সরকারী নম্বর ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ সময়েই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকাল,দুপুর,সন্ধা ও রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পরতে হচ্ছে ডোমারবাসীকে। বিদ্যুত অফিসের অনেক কর্মচারী নাম না জানার শর্তে বলেছেন এ আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুত আনতে পারেনা। তিনি অযোগ্য ,সময়মত চাহিদা পত্র দেয়না। তাই বিদ্যুতের এমন অবস্থা। এইচ,এস,সি পরীক্ষা চলমান থাকা অবস্থায় ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ে পরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এদিকে বোরো আবাদের জন্য জমিতে সেচ দেওয়ার এটাই মোক্ষম সময় হলেও বিদ্যুতের অভাবে কৃষকরা জমিতে পানি দিতে না পারায় মরে যাচ্ছে ধান গাছের চারা। ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে ক্ষেত। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে অধিকাংশ জমিতে বোরো আবাদ সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ, রাত ১১টার পর থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যুৎ থাকার কথা জমিতে পানি দেওয়ার জন্য। কিন্তু রাত ১১ টার পরও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুত না থাকায় অনেক জমির ধান মরে গেছে। আবার অনেকেই ধান চাষের বদলে অন্য ফসল আবাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে ডোমার বিদ্যুত বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অফিসে না থাকায় তার মন্তব্য জানা যায়নি।






মন্তব্য চালু নেই