মেইন ম্যেনু

নেতাজির মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন!

অবশেষে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা নেতাজি সুভাস বসুর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বোসফাইলসডটইনফো নামে একটি ওয়েবসাইট। শনিবার এনডিটিভির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য-উপাত্তের বর্ণনা দিয়ে ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়, নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সুভাস চন্দ্র বোস তাইওয়ানে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

নেতাজির শেষ জীবনে পাশে থাকা পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে দুজন জাপানি চিকিৎসক, একজন দোভাষী, একজন তাইওয়ানি সেবিকা এবং অপরজন সুভাস বসুরই দেহরক্ষী কর্নেল হাবিবুর রহমান খান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (আইএনএ) প্রতিষ্ঠাতা ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের একটি বিমান অবতরণকেন্দ্রের বাইরে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

তবে ১৮ আগস্ট মধ্যরাতেই সুভাস বসু মারা যান- পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে তিনজন এমন বক্তব্য দিলেও দুজনের মতামত পাওয়া যায়নি। নেতাজির দেহরক্ষী কর্নেল হাবিবুর রহমান খান ওই বিমান দুর্ঘটনার সময় তার পাশেই ছিলেন। সৌভাগ্যজনকভাবে দুর্ঘটনা থেকে তিনি বেঁচে যান। ১৯৪৫ সালের ২৪ আগস্ট হাবিবুর রহমান খানের এক লিখিত বিবৃতি থেকে সুভাস বসুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

হাবিবুর রহমানের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মৃত্যুর আগে আমার সঙ্গে নেতাজির শেষ কথা হয়। তিনি বলেন, মৃত্যু সন্নিকটে। ভারতবাসীর কাছে আমার বার্তা নিয়ে যাও। ভারতকে স্বাধীন করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই যাচ্ছি। এই একই কারণে নিজের জীবন উৎসর্গ করছি। দেশবাসী! যতদিন না পর্যন্ত আমার দেশ স্বাধীন হবে, ততদিন লড়াই চালিয়ে যাও। আজাদ হিন্দ জিন্দাবাদ।’

ওই দুর্ঘটনার পর ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফিনে ও দাভিস নামে ব্রিটিশ ভারতের দুজন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুটি গোয়েন্দা দল ব্যাংকক, সাইগন ও তাইপে যায় ঘটনার তদন্ত করতে। ভারতের দুই পুলিশ কর্মকর্তা এইচ কে রায় ও কে পি দে তাদের সহযোগিতা করেন। তদন্ত শেষে তারা সিদ্ধান্ত দেন, বিমান দুর্ঘটনাতেই নেতাজি মারা গেছেন।

এ ছাড়া জাপানের সেনাবাহিনীর দক্ষিণ ফ্রন্টের প্রধান হিকারি কিকানের কাছ থেকে একটি টেলিগ্রামের কপি সংগ্রহ করেন ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। টেলিগ্রামে স্বাধীন ভারতের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে সুভাস চন্দ্র বসু ও জাপান সরকারের মধ্যে করা সমঝোতা চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ ছিল।

ওই দলিলে সুভাস চন্দ্র বসুর নামের জন্য ‘টি’ কোড ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ২০ আগস্ট তারিখের ওই টেলিগ্রামে বলা হয়, ‘টি’ রাজধানী টোকিওতে আসার পথে তার বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এটি ১৮ তারিখের ১৪০০ ঘণ্টায় তাইহোকুতে (তাইপের জাপানি নাম) বিধ্বস্ত হলে ‘টি’ গুরুতর আহত হন। ওইদিনই মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

১৯৪৬ সালের মে ও জুলাইয়ের দিকে ব্রিটিশ সেনবাহিনীর লে. কর্নেল জেজি ফিগেজ টোকিওতে জাপানের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যারা ওই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এদের মধ্যে চিকিৎসক তয়োশি সুরুতাও ছিলেন। সুরুতা ন্যানমন সামরিক হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পরে ওই হাসপাতালেই সুভাস বোসের চিকিৎসা হয়।

ফিগেজকে ডা. সুরুতা বলেন, ‘ওই রাতে বোস ইংরেজিতে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রাতটি তার পাশে বসে থাকতে পারব কিনা। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে তাকে ক্যাম্ফর ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পরই তিনি কোমায় চলে যান। মধ্যরাতের দিকে তিনি মারা যান।

১৯৪৬ সালে সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ের ফ্রি প্রেস জার্নালের সাংবাদিক হারিন শাহের কাছে এক সাক্ষাৎকারে ওই হাসপাতালে কর্মরত থাকা নার্স সান পি শা একই কথা বলেছেন। হারিন শাহ তাইপেতে ওই ঘটনার অনুসন্ধানে গিয়ে সান পি শার সাক্ষাৎকার নেন।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই