মেইন ম্যেনু

নৌযান ধর্মঘটে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে মোংলা বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু হয়।

নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম মাস্টার বলেন, বিভিন্ন সময়ে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ শ্রমিকদের ১৫ দফা দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করে আসছি। এর আগে কয়েক দফা ধর্মঘটের সময় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, এর আগে গত ২০ এপ্রিল দাবি আদায়ের জন্য অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরুর চার দিন পর নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করি। কিন্তু নৌ শ্রমিকদের দাবি আজো বাস্তবায়ন না হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালে এই ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা।

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, বর্তমানে বন্দরে গম, সার, কয়লা, ক্লিংকারসহ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) মোট ১২টি জাহাজ অবস্থান করছে। নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বন্দরে অবস্থানরত জাহাজে পণ্য বোঝাই ও খালাস কাজ বন্ধ রয়েছে।

ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে বন্দরে জাহাজের জট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানান তিনি।

নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ওয়েজুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ১০ হাজার টাকা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিরপূরণ পুনর্নির্ধারণ, নৌ পথের নাব্যতা রক্ষা ও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে। এতে মোংলা বন্দরসহ সারাদেশে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার নৌযানের দুই লাখ শ্রমিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ ধর্মঘট পালন করছে। তবে তেলবাহী ট্যাংকারের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করায় ধর্মঘটের আতওয়ামুক্ত থাকছে প্রায় পাঁচ হাজার ট্যাংকার।

ধর্মঘটের কারণে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দরের শিল্প এলাকার বিভিন্ন কল-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






মন্তব্য চালু নেই