মেইন ম্যেনু

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

পূর্ব ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে নৌযান শ্রমিকরা। নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেয় নৌযান শ্রমিকদের তিনটি সংগঠন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে নৌযান মালিক, শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ও বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শুকুর মাহমুদ।

তারা বলেন, একমাসের মধ্যে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণসহ মার্চ মাসের মধ্যে শ্রমিক ফেডারেশনের মোট ২০ দফা দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে এই কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা করছি।

এ সময় নৌযান মালিক পক্ষ এবং বিআইডব্লিইউটিএ, শ্রম অধিদপ্তরসহ নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণসহ ১৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিল বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশন ও লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

দুপুর আড়াইটা থেকে সচিবালয়ের নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে নৌযান শ্রমিকদের দুটি সংগঠন ও নৌযান মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেন। প্রায় সাড়ে চারঘন্টা বৈঠক শেষে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ শর্তসাপেক্ষে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহারে সমঝোতায় উপনীত হন।নৌযান শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক, শ্রমিক, বিআইডব্লিউটিসি ও মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও সামাজিক নিরাপত্তায় মালিকপক্ষের ঐক্যমত, কল্যাণ ফান্ড চালুতে ডিজি শিপিং-এর নেতৃত্বে উদ্যোগ নেওয়া, মজুরির বিষয়ে মালিক-শ্রমিক দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা ও জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করবে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একটি সেফটি কমিটি গঠন করা হবে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন মেরিন কোর্টে মামলার লিখিত প্রস্তাব দিলে সে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।

পাইপলাইনে জ্বালানি তেলের বিষয়ে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা এবং সুরমা ও অন্যান্য নৌ-খননে বিআইডব্লিউটিসি ব্যবস্থা নেবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে নৌমন্ত্রী শাজাহানখান জানান, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছেন।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান, মজুরি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকার, মালিক ও শ্রমিকের সমেন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৩০কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করবে। পাইপ লাইনে তেল সরবরাহের বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে সমাধানের জন্য আলোচনা করা হবে। তাছাড়া বাকী সব দাবি দাওয়া আগামী দুমাসের মধ্যে পুরণ করার শর্তে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আশা করি, সবপক্ষই দাবি দাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক হবেন।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্প্রসারিত মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

তাদের দাবিগুলো হলো- সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ মজুরিকাঠামো ঘোষণা, ফিশিং ট্রলার শ্রমিকদের ঘোষিত মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশ ও শিল্পস্বার্থ-বিরোধী পরিকল্পনা বাতিল, সামুদ্রিক মৎস্য শিকারি জাহাজ শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন, নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অপহরণ বন্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া, মাস্টার-ড্রাইভার পরীক্ষায় দুর্নীতি বন্ধ প্রভৃতি।






মন্তব্য চালু নেই