মেইন ম্যেনু

নয় লাখ টাকায় এক মণ সোনা!

‘অতি লোভে তাতী নষ্ট’ এই প্রবাদটি কম বেশি সবাই জানে। কিন্তু তার পরেও অনেকেই জেনে বা না জেনে এই ফাঁদে পা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে বসে সর্বস্ব। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার মেম্বারপাড়া গ্রামে।

এ গ্রামের ইউপি মেম্বার হচ্ছেন জিয়াউর রহমান। নয় লাখ টাকায় এক মণ (৪০ কেজি) সোনা পাওয়ার আশায় তিনি দুই ভণ্ড সাধুর পাতা ফাঁদে পা দেন।

জিয়াউর রহমান বলেন,‘একমাস আগে আমি ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হারুয়া বাড়ি গ্রামের আবুল কাশেম (৪০) নামে দুই সাধুকে বাড়িতে ডেকে দাওয়াত খাওয়াই। এতে আপ্যায়নে খুশি হয়ে ওই দুই সাধু অলৌকিকভাবে আমার ২০ হাজার টাকাকে ৪০ হাজার টাকা বানিয়ে দেয়। এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে ওই দুই সাধুকে আবার খাওয়ানোর জন্য দাওয়াত দেয়া হয়।’

এ সময় ওই দুই সাধু বলেন,‘আমরা দু’জন ভারতের পাহাড়ের জঙ্গলে চলে যাব। বাকি জীবন আল্লাহর ইবাদত করব। মানুষের মধ্যে আর ফিরে আসতে পারব কিনা জানি না। যাওয়ার আগে তোর (মেম্বার) একটা কাজ করে দিতে চাই। তোর যতো টাকা আছে সব একস্থানে জড়ো কর তা সোনা বানিয়ে দেই।’

তাদের কথা মতো মেম্বার ৯ লাখ টাকা একটা বড় ড্রামের ভিতরে করে ঘরের মধ্যে মাটির নিচে রাখে। ৭ দিন পর মাটি থেকে তুললে সব সোনা হয়ে যাবে এই আশায় সাধুর কথা মতো সব কাজ করা হয়। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখাও হয়।

এ অবস্থায় হঠাৎ করে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ওই দুই সাধু হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। তখন তাদের মনে সন্দেহ জাগে। ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ড্রামে দেখতে পায় একটি টাকাও নেই সেখানে। তখন তারা বুঝতে পারে ওই দুই সাধু ভণ্ড প্রতারক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রাজীবপুর সদর ইউনিয়নের ৮নং সদস্য জিয়াউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধার-দেনা করে সর্বমোট ৯ লাখ টাকা জড়ো করেছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ একই পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান নুর-ই শাহী ফুল বলেন,‘আমার কাছ থেকেও দুই লাখ টাকা ধার নিয়েছে অথচ এ বিষয়ে তিনি আমাকেও কিছু বলেনি।’






মন্তব্য চালু নেই