মেইন ম্যেনু

পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি নিয়ে সংকটে সরকার

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দিলে কীভাবে বৃত্তি দেওয়া হবে তা নিয়ে সংকটে পড়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় চলতি বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিল গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে বৃত্তির বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় এ বছরই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে মন্ত্রণালয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সালে প্রথম প্রাথমিক সমাপনী শুরু হয়। মাদ্রাসার ইবতেদায়ি সমাপনী শুরু হয় আরও এক বছর পর। সেই থেকে এ সমাপনী পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে বৃত্তির জন্য পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার পর আলাদা পরীক্ষা নেওয়া হতো।

এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দিতে বিভিন্ন মহলের দাবি রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (৮ জুন) সচিবালয়ে নিজ দফতরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, ‘এখনো পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার অনেক দেরি আছে। আমরা চেষ্টা করছি, বন্ধ করতে তো আর সময় লাগবে না। আমরা যদি অক্টোবরে বলে দিই পরীক্ষা হবে না, তাহলেই তো হলো। এতে যদি বাচ্চাদের মঙ্গল হয়, আমাদের তো অসুবিধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা উঠে গেলে বৃত্তির কী হবে অনেকে জানতে চায়। আমি বলি, পরীক্ষাই নেই, সেখানে বৃত্তির কী আছে।’

এরপরই মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা না থাকলেও বৃত্তি থাকুক এটা সবাই চায়। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া কীভাবে বৃত্তি দেব সে বিষয়ে আমাদের সুশীল সমাজের কাছে শুনে নিতে হবে। এ বিষয়ে জবাবও নিশ্চয়ই আছে।’

অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, ‘এবারই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠে গেলে বাচ্চাদের মঙ্গল হবে না। কারণ বৃত্তির একটি বিষয় আছে। পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠে গেলে বৃত্তি দেওয়া নিয়ে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে।’

সচিব বলেন, ‘অনেকে বলছেন পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিলে আবার অষ্টম শ্রেণিতে কেন সমাপনী দেব। এবার পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষার জন্য আমাদের প্রস্তুতি তো হয়েই গেছে। সরকার বন্ধ করে দিলে নেব না। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এবার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী নেওয়া না হলে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি দেওয়া হবে কীভাবে।’

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা না থাকলে কোন ব্যবস্থায় বৃত্তি দেওয়া হবে- প্রশ্ন রেখে সচিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তো বার্ষিক পরীক্ষা দেয়। এবার বার্ষিক পরীক্ষা মনে করে পঞ্চম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষাটা দিয়ে দিলেই হয়। এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণি শেষে বৃত্তির জন্য পরীক্ষার কথা তো শিক্ষানীতিতেও আছে।’

গত ১৮ মে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও এ বিষয়ে এখনো মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

গত বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ মিলে ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। এর আগে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পেত।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই