মেইন ম্যেনু

পতিতাবৃত্তি অবৈধ না!

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘বারাঙ্গনা’ কবিতায় নারী যৌনকর্মীদের ‘মানুষ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কবিতার প্রতিটি লাইনে ছিল পতিতালয় সম্পর্কে সমাজের মনোভাবের বিরুদ্ধে বিদ্রূপ ও বিদ্রোহের স্পষ্ট প্রতিফলন। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে নারী যৌনকর্মীদের গণ্য করা হয় সামাজিকভাবে ‘সুবিধাবঞ্চিত নারী’ হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত কোনো আইনেই পতিতাবৃত্তি বা কাজ হিসেবে যৌনপেশাকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।

তারপরও যৌনকর্মীরা এখনো তাদের পেশার স্বীকৃতি পাননি। এ পেশায় জড়িয়ে যৌনকর্মীদের সহ্য করতে হচ্ছে অসহনীয় কষ্ট। পেশাগত স্বীকৃতি ও সনদ ছাড়া তাদের এসব সমস্যা কখনো শেষ হওয়ার নয়।

ন্যাশনাল এইডস কমিটির ২০০৬-এর জরিপে জানা যায়, দেশে নারী যৌনকর্মীর সংখ্যা নব্বই হাজারেও বেশি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এনজিওর তথ্যমতে, দেশে যৌনকর্মী রয়েছেন প্রায় দেড় লাখ। সেভ দ্য চিলড্রেন ইউএসএ ও আইসিডিডিআরবির তথ্যমতে, দেশের ১৪টি পতিতালয়ে রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি যৌনকর্মী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচরাচর যৌনকর্মীরা গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামাইডা এবং ছত্রাক জাতীয় ইনফেকশনজনিত যৌনরোগে ভোগেন। অল্প বয়স্ক মেয়েদের মোটা করার জন্য নির্বিচারে ওরাডেকশন জাতীয় স্টেরয়েড-হরমোন জাতীয় ওষুধ বা ইনজেকশন দেওয়া হয়। এগুলো দীর্ঘদিন সেবনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়।

বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি, যেখানে যৌন পেশাকে অবৈধ বলা হয় না। বাংলাদেশের প্রচলিত কোনো আইনেই পতিতাবৃত্তি বা কাজ হিসেবে যৌনপেশাকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। ১৯৯৯ সালের ১৪ জুলাইতে প্রথম পেশাগত নারী যৌনকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের নামে দেশের বৃহত্তম পতিতালয় টানবাজার ও নিমতলী থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০০০-এর মার্চে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ফজলুল করিম ও বিচারপতি এমএ ওয়াহাব মিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চের ঐতিহাসিক রায়ে জীবিকা বা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে যৌনকর্ম বেআইনি নয় বলে জানানো হয়।

যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ‘লাইট হাউস কনসোর্টিয়ামে’র ট্রেনিং বিশেষজ্ঞ সৈয়দ তাপস বলেন, বর্তমানে দেশে নারী যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। দেশের সবচেয়ে বড় পতিতালয় হচ্ছে দৌলতদিয়ায়। সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে যৌনকর্মীরা এখনো পেশার স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে এইডস সংক্রমণ কমেছে। যৌনকর্মীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইন রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই নাজেহাল হচ্ছেন। কয়েকবছর আগেও যৌনকর্মীদের মৃতদেহ দাফন করা যেত না। নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। রাজধানীর এক যৌনকর্মী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমার এ অবস্থার জন্য আমি সমাজ, সরকার, দেশ ও জাতিকে দোষারোপ করি। আমার মতো অভিভাবকহীন অসহায় মেয়েকে এ পেশায় আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর ভাসমান যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে। অধিদফতর এসব নারীকে ‘সামাজিক প্রতিবন্ধী নারী’ হিসেবে দেখতে পছন্দ করে। দেশের ৬টি বিভাগে ১টি করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১২০০ জন মেয়েকে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন ‘পায়েট বাংলাদেশ’। সংগঠনের উপপরিচালক জয়িতা সাহা বলেন, ২০০০ সালের দিকে যৌনকর্মীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। বর্তমানে নারী যৌনকর্মীরা তাদের অধিকার রক্ষায় সচেতন। গত নির্বাচনে দেশের নারী যৌনকর্মীরা প্রথমবারের মতো ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন, যা একজন নাগরিক হিসেবে যৌনকর্মীদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করবে।

‘মানুষের জন্য’ ফাউন্ডেশনের সেক্স ওয়ার্কার ইনটারভেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার মহুয়া ফানিয়া বলেন, মাস্তান ও পুলিশ কর্তৃক যৌনকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হন। রাজনৈতিকভাবেও তারা হুমকির সম্মুখীন। তাদের রোজগারের বড় একটি অংশই পুলিশ বা মাস্তানদের পকেটে যায়। সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে এ কথার বাস্তব প্রতিফলন নেই।(সংগ্রহীত)
– See more at: http://www.bd24live.com/bangla/article/72937/index.html#sthash.2B1vKKzX.dpuf






মন্তব্য চালু নেই