মেইন ম্যেনু

ফিরে দেখা ২০১৫

পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন মাশরাফি!

২০১৫ সাল বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দুহাত ভরে দিয়ে গেল। দেশের ক্রিকেটের অর্জন এখন সবার মুখে মুখে। সেই অর্জনের দিনগুলোতে এমন কিছু ঘটনা পর্দার আড়ালে ঘটেছে, যা কেউ জানে না। সেই সব ঘটনা নিয়ে দেশের একটি ইংরেজি দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। চলুন দেখে নেয়া যাক কী আছে সেই অজানা অধ্যায়ে-

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ:

দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন মাশরাফি! ম্যাচের আগে গোটা দলকে ডেকে পাঠান বোর্ড সভাপতি পাপন। দলের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু কথা বলেন, যা মাশরাফির পছন্দ হয়নি। কোচ-অধিনায়কের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে শোনা যায় পাপনকে। পরে ম্যাচটি অবশ্য জিতে যায় বাংলাদেশ। চুপ করেন যান পাপন।

একই সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতে মাশরাফি আগে বল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাথুরুসিংহের সিদ্ধান্ত ছিল ব্যাটিংয়ের। একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হাথুরুকে সমর্থন করেন মাশরাফি। পুরো ড্রেসিংরুম সেদিন অবাক হয়েছিল। এমনকি ওপেনাররা পর্যন্ত প্রস্তুত ছিলেন না।

ওই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তামিম পাঁচ রানে আউট হওয়ার পর পাপন কোচকে ফোন করে বলেন, পরের ম্যাচে তামিমকে বসিয়ে দিতে। ওই সময় টিমবাস হোটেলে ফিরছিল। বাসের ভেতর বসেই হাথুরুসিংহ বিষয়টি তামিমকে জানান। তামিম ‘ভীষণ কষ্ট পান’। রাতে নাকি কান্নাকাটিও করেন। পরের ম্যাচে তামিম ঠিকই মাঠে নামেন। ৬১ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে আনেন।

দ্বিতীয় ওয়ানডে ঘিরে ঝামেলার এখানেই শেষ নয়। ওই ম্যাচে রিয়াদকে বসিয়ে দিতে চেয়েছিলেন কোচ। কিন্তু সাকিব এবং মাশরাফির কারণে একাদশে থেকে যান রিয়াদ। আস্থার প্রতিদানও দেন। অপরাজিত অর্ধশতক করে দলকে জিতিয়ে আনেন।

হাথুরুসিংহের ইচ্ছা ছিল লিটন দাসকে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই উইকেট রক্ষক হিসেবে খেলানোর। কিন্তু মাশরাফি-সাকিব তাতে রাজি হননি। তাদের ধারণা ছিল- মুশফিক এমনিতে ফর্মে নেই। তার ওপর যদি কিপিং না পায়, তাহলে তার মনোবল ভেঙে যাবে। দলে থাকাই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত কোচ রাজি হন। মুশফিক উইকেটের পেছনে দাঁড়ান। আর লিটন ফিল্ডিং করেন।

ভারত সিরিজ:

বাইরে থেকে বলাবলি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে নাজমুল হাসান পাপনের কথাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। সাধারণ মানুষের এই ধারণা ভুল। দলে ঠিকই ‘গণতান্ত্রিক আবহাওয়া’ বিরাজ করে। না হলে মুস্তাফিজুর রহমান ভারতের বিপক্ষে সেই প্রথম ওয়ানডেতে খেলতে পারতেন না। পাপন চেয়েছিলেন মুস্তাফিজের বদলে আরাফাত সানিকে দলে নিতে। ১১ জনের একটি লিস্ট তিনি কোচ-অধিনায়কের কাছে পাঠিয়েও দেন। কিন্তু তারা তা মেনে না নিয়ে মুস্তাফিজের খেলার ব্যাপারে বোর্ড সভাপতিকে অবহিত করেন। সভাপতি তা মেনেও নেন। ওই ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।

তৃতীয় ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফি চেয়েছিলেন আগে ব্যাট করতে। কিন্তু কোচ সিদ্ধান্ত নেন ফিল্ডিংয়ের। ওই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত ৩১৭ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ হেরে যায় ৭৭ রানে।

বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের এক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের (নাম প্রকাশ করা হলো না) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নের ওই ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নেয় অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে কোনোভাবে ওই খেলোয়াড় বোঝাতে সক্ষম হন ভুল বোঝাবুঝির জন্য এমনটি হয়েছে। বড় বাঁচা বেঁচে যায় বাংলাদেশ!






মন্তব্য চালু নেই