মেইন ম্যেনু

পদ্মার ওপারে বাংলাদেশের অস্তিত্বে চারটি পিলার!

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : পবার চর খিদিরপুরে নো-ম্যান্স ল্যান্ডের চারটি পিলারই বাংলাদেশের অস্তিত্ব বহন করছে। পদ্মার কড়াল গ্রাসে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে ১৮ টি পিলারের মধ্যে ১৪টিই পদ্মা নদীতে বিলিন হয়েছে। বাকি চারটি বিলিন হলেই বাংলাদেশ মালিকানা হারাবে। গত দু’বছরে এই সীমান্তে দেশের ভূ-খন্ড হারাতে বসলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি কর্তৃপক্ষ।

পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর খানপুর ও চর খিদিরপুর এলাকা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পদ্মার ভাঙ্গনে। সেখানে বিগত কয়েক বছর থেকে পদ্মার গর্ভে বিলিন হয়েছে দেশের এই ভূ-খন্ড। একদিকে দেশ ভূ-খন্ড হারাচ্ছে এবং অন্যদিকে পদ্মার ভাঙন চরবাসীর হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে চলেছে। ভিটে মাটি হারিয়ে বেশীরভাগ চরবাসী সর্বস্বান্ত হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

জানা গেছে, পদ্মার অব্যাহত ভাঙ্গনে পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর তারানগর, চরখিদিরপুর, দিয়াড় খিদিরপুর, চর তিতামারি, দিয়াড় শিবনগর, চরবৃন্দাবন, কেশবপুর, চর শ্রীরামপুর ও চর রামপুরের প্রায় সবটুকু জমিই পদ্মার গর্ভে বিলিন হয়েছে। যে টুকু অবশিষ্ট আছে তাও বিলিন হতে বসেছে। ইতিমধ্যে সেখানে বিলিন হয়েছে ১৪টি সীমান্ত পিলার। পদ্মায় ভাগ বসিয়েছে ভারতীয় বিএসএফ। বাকি যেটুকু আছে সেটুকু বিলিন হলে সেখানে বাংলাদেশের ভুখন্ড থাকবেনা।

গতবছরই পদ্মার ভাঙনে হরিয়ানের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর তারানগরে ২শ’ ঘরবাড়ি, চারটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতল আশ্রয় কেন্দ্র, খানপুর বিজিবি ক্যাম্প এবং আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১৬৪ ও ১৬৫ নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আবার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চরখিদিরপুরে প্রায় ৪শ’ বাড়ি, একটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি পাকা দ্বিতল প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাচটি মসজিদ, দু’টি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১৫৯-এর এস-৩, ৪, ৫ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

এই দুই ওয়ার্ডে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। ভোটার ছিল প্রায় ৩৩’শ। বাড়িঘর জমি জমা পদ্মার গর্ভে বিলিন হওয়ায় সবমিলিয়ে এখন শুধু এক হাজার লোক বসবাস করছে সেখানে। কিছু পরিবার বাড়ি করেছে মধ্যচরে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও নদী গর্ভে বিলিন হওয়া জমি এবং সীমানা পিলারগুলো পুনঃসস্থাপনের এলাকাবাসি দাবি জানালেও সে দাবি পূরণ হয়নি। উপরোন্ত তারাই প্রতারিত ও বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃতি ও প্রশাসনের কাছে থেকে।

গতবছরের উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের পরিদর্শন আর পরিকল্পনার তিমিরেই থেকে গেছে সকল উদ্যোগ। বাস্তবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা ছাড়া কিছুই হয়নি। এবছরও ভাঙন অব্যহত রয়েছে। বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত না হলেও স্রোতের তীব্রতা বেশী থাকায় দেখতে দেখতেই বিলিন হচ্ছে চরের ভূ-খন্ড। ভাঙন এতই তীব্র যে এবং ভূ-খন্ডে অধিকারের প্রশ্নে ওই এলাকায় পদ্মায় প্রায় ৪০টি মাছ ধরা নৌকাকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। পুরো তীর না ভাঙ্গতেই এই অবস্থা ভাঙ্গলে নদী শাসনের পাশাপাশি জনগণ পড়বে বিপদে।

ওই এলাকার ইউপি’র মহিলা সদস্য কহিনুর বেগম ও সাধারণ সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ভাঙন শুরু হয়েছে চলবে আশ্বিনের শেষ পর্যন্ত। যে ভাবে ভাঙ্গছে তাতে এ বছরই এই চর আর থাকবে না। তারা আরো বলেন, দুই বছরে প্রায় দেড় কিলোমিটার পদ্মার পাড় নদীতে বিলিন হয়েছে। মানুষ এবং গরু মহিষের খাদ্য না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছি। ৪শ’ ঘরের মধ্যে শুধুমাত্র ৫০ ঘরের মত এখন বসবাস করছে। চরের হিরা বেগম, সুখমন বলেন চারবার ঘর ভেঙ্গেছি আর কতবার যে ভাঙ্গতে হবে পদ্মায় জানে। কথা বলার সময় তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে হতাশা, আতংক ও বিসন্নতা। তারা চাই সাহায্য, চাই নিরাপত্তা।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গতবছর রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখানপুর বিওপি রক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। চর খিদিরপুরের জন্য প্রায় ১৭৪ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। অনেকদুর এগুয়েও এরচেয়ে দেশের অন্যত্র বেশী গুরুত্বপূর্ণ থাকায় এ বছর টাকা অনুমোদন হয়নি। তবে বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, দেশের ভূ-খন্ড রক্ষায় বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। বিষয়টি পবার এপারের গ্রাম রক্ষায় এরই মধ্যে ২৬৮ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন হয়েছে। ওপারের ভূ-খন্ড রক্ষায় এরআগেও সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে আবারো করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই