মেইন ম্যেনু

পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন

রাজিব হোসেন রাজন, শরীয়তপুর : পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবল থেকে বাঁচা এবং রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন করেছে তেপান্তর ( শরীয়তপুর জেলা ছাত্র সমাজ) এর উদ্যোগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়ন সুরেশ্বর গ্রামের সাধারণ জনগন।

বুধবার বিকাল ৪টা থেকে শুরু করে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন চলে। এতে তেপান্তরের শরীয়তপুর জেলা সভাপতি এনামুল হক রিয়াদ, শরীয়তপুর জেলা সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম শরীয়তপুর জেলা সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম,ভেদরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি বাদল মোল্লা, ভেদরগঞ্জ উপজেলা সাধারন সম্পাদক ফয়সাল,পারভেজ সরদার,সফিকুল ইসলাম এবং স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিরা অংশ নেয়।

দীর্ঘ এক মাসে পদ্মার নদীর ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর চারশতাধিক ঘর বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ রাস্তা ঘাট নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসত বাড়ি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে পাঁচশতাধিক পরিবার। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের আত্মীয়র বাড়ি আশ্রয় নিলেও বাকীরা সব খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পদ্মার পারের এক’শ পবিরার ভাঙ্গন আতঙ্কে তাদের বসতঘর ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

গত কয়েক দিনে শরীয়তপুরের ১৫টি গ্রামে পাঁচ‘শ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামে এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গনের হুমকিতে থাকায় একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন,ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও বিদ্যালয়ের ভবন নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পদ্মা নদীর পানি গত কয়েক দিন ধরে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে তীব্র শ্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে কিছু এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত এক মাস হতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের মুন্সি কান্দি,বেপারী কান্দি,কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর, ওয়াবদা,সুরেশ্বর গ্রামগুলোর প্রায় পাঁচ‘শ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। নড়িয়া উপজেলার চন্ডিপুর বাজারটি সম্পূর্ন বিলীন হয়ে গেছে। বাজারের ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তেপান্তরের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক রিয়াদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা বিনিতভাবে অনুরোধ করছি দ্রুত সুরেশ্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে নড়িয়া তথা,শরীয়তপুর বাসীকে পদ্মার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করুন।

সুরেশ্বর বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন,কয়েক দিনের ভাঙ্গনে আমাদের বাজারটি নিচিহ্ন হয়ে গেল। বসত বাড়ি,ফসলি জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে আমরা নিশ্ব হয়ে গেলাম। এখন কিভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেঁচে থাকব আল্লাই জানেন।

নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউপি চেয়ারম্যান আঃ রব খান বলেন, কয়েক দিনের ভাঙ্গনে ঘড়িষার ইউনিয়নের সুরেশ্বর ও চরআত্রা ইউনিয়নে চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। বসত বাড়ি ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় সবাই নিস্ব হয়ে পরেছে।






মন্তব্য চালু নেই