মেইন ম্যেনু

‘পদ্মাসেতু দুর্নীতি মামলা হয় বিশ্বব্যাংকের চাপে’

অহেতুক অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের চাপেই পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান ও তদন্ত বিভাগের কমিশনারের বিদায়ী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিদায়ী দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ও কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর শেষ কর্মদিবস আজ। আগামীকাল (সোমবার) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাক্তন সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ ও কমিশনার হিসেবে প্রাক্তন জেলা জজ এ এফ এম আমিনুল ইসলাম যোগদান করবেন।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে মো. বদিউজ্জামান বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে অহেতুক অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের লড়াই করতে হয়েছে। আমরা এই মামলার তদন্ত পর্যায়ে যতই গভীরে গিয়েছি ততই এই অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে মনে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই মামলা করলে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিবে, পদ্মা সেতু নির্মিত হবে এবং দেশের উপকারে আসবে-এই ভেবে মামলাটি করা হয়েছিল। এই মামলায় দেশের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুন্ন না হয়, তাই একজন দক্ষ কর্মকর্তা দ্বারা মামলার তদন্ত করা হয়েছিল। পরে তদন্তে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মনে হওয়ায় এর চুড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দেওয়া হয়েছে।

মো. বদিউজ্জামান বলেন, বিগত পাঁচ বছর দুদকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় কমিশন আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে। এই পাঁচ বছর আমরা যে কাজ করেছি, তার মূল্যায়ন দেশবাসী করবে।

এ সময় তিনি গত পাঁচ বছরের উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে হলমার্ক কেলেঙ্কারী, ডেসটিনির প্রতারণা ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রতারণার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, কমিশনে অনেক অভিযোগ আসে, অভিযোগ মানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী না। তাই কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে পরামর্শ দেন বিদায়ী এই চেয়ারম্যান।

দুদকের বিদায়ী কমিশনার (তদন্ত) সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ কমিশন যেভাবে কাজ করেছে তা মনে রাখতে হবে। আপনাদের রেশনিং সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করেছি। পদোন্নতি দিয়েছি অনেককে। অনেক যোগ্য হয়তো বঞ্চিত হয়েছে কিন্তু সবাইকে হয়তো খুশি রাখা সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুর্নীতিবাজদের মনে একটু হলেও ভীতির সঞ্চার করতে পেরেছি। অনেক দুর্নীতির আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদায় নেয়ার সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী এ কমিশনার।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালের পরিচালনায় বিদায়ী অনুষ্ঠানে দুদকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) নাসিরউদ্দীন আহমেদ।






মন্তব্য চালু নেই